টিনএজ মেয়েরা উদ্দাম, উচ্ছল, চঞ্চল, মুডি, অতিরিক্ত স্পর্শকাতর হয়। মনের প্রতিক্রিয়া প্রকাশে নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। মায়েরাও এই বয়স পেরিয়ে এসেছেন। তাঁরা জানেন কত বিধিনিষেধ পাড়ি দিয়ে তাঁরা এই পর্যায়ে এসেছেন। টিনএজ মেয়েরা সমাজের এই বিধিনিষেধ ভাঙতে চায়, এগিয়ে যেতে চায়। কিন্তু প্রথম প্রথম বাদ সাধেন মা। তাঁর অভিজ্ঞতা ও বিচারবুদ্ধির আলোকে দেখতে চান মেয়ের ভবিষ্যৎ। কিন্তু সময় বদলে গিয়েছে। প্রজন্ম ব্যবধান বা জেনারেশন গ্যাপ এখানে মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা। আধুনিক পৃথিবীতে মেয়েদের জগৎ ও জীবনবোধ পাল্টাচ্ছে খুব দ্রুতগতিতে। যে কাজ কয়েক বছর আগেও মেয়েদের জন্য সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না, সে কাজে নতুন দিনের মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। ফ্যাশন, সাজগোজ, পোশাক-আশাক, চালচলন, কথা বলাতেও লেগেছে নতুন দিনের হাওয়া। মা তো কোনো দিন ভাবতেই পারেননি রোড শোতে স্কুলের পক্ষে সামাজিক সচেতনতার কাজে অংশ নেওয়ার কথা। কিন্তু কিশোরী দিব্যি স্কুলবন্ধুদের সঙ্গে বিশ্বকাপ ফ্লাশমবের স্ট্রিট ড্যান্সে অংশ নিতে উদ্গ্রীব। এ ক্ষেত্রে মায়ের মত ভিন্ন হলে দূরত্ব তো বাড়বেই। তাই যত রাগ-ক্ষোভ ঘৃণা ঝরে পড়ে মায়ের ওপর। মাও হতবিহ্বল। কীভাবে এই মেয়েকে বোঝাবেন? আর মেয়ের বাবাও তো এক পায়ে খাড়া। স্ত্রীর ক্ষেত্রে পুরুষেরা বিভিন্ন বিষয়ে রক্ষণশীল হলেও মেয়ের ব্যাপারে বেশ উদার। বাবার আশকারা আর মায়ের নানা ছুঁতমার্গে মেয়ে হয়ে ওঠে মায়ের প্রতি বৈরী।