কিশোরবাংলাপ্রতিবেদন: শিশুরা মিথ্যা বলতে জানে না। অথচ ক্রমেই অনেকের মিথ্যা বলার প্রবণতা বাড়তে থাকে। এই প্রবণতার মূল হলো ‘ভীতি’। আর এই ভীতির জন্ম দেয় বড়রা। বড়রাই ছোটদের ভয় দেখিয়ে দেখিয়ে মিথ্যা বলার পথ সুগম করে দেয়।
কখনো কখনো অসাবধানতাবশত শিশুর হাত থেকে জিনিসপত্র পড়ে ভেঙে যেতে পারে। সে যে ইচ্ছে করে ভেঙেছে তেমন নয়, কিন্তু এজন্য অনেক সময় তাকে বড়দের কাছ থেকে বকাঝকা খেতে হয়। একইভাবে না বলে কিছু খেলে বা অজান্তে কোনো অন্যায় করলে তার আর রক্ষে নেই।
প্রথম প্রথম শিশু কোনো অন্যায় করলে, তা সে অকপটে স্বীকার করে। কিন্তু এমনিভাবে অত্যাচারিত হতে থাকলে পরবর্তীকালে সে ক্রমেই কোনো অন্যায় করলে তা বেমালুম অস্বীকার করে, মিথ্যার আশ্রয় নেয়। বাচ্চাদের তাই ভয়-ভীতি দেখিয়ে নয়, আদর-স্নেহ-মায়া-মমতা-ভালোবাসা দিয়ে মানুষ করতে হবে।
অনেক সময় দেখা যায়, বাচ্চারা কারো বাসায় গেলে সেখান থেকে তার পছন্দমতো জিনিস না বলে নিয়ে আসে। একটু বড় হয়ে স্কুলে ভর্তি হলে সহপাঠীদের রাবার, পেন্সিল, বই, খাতা, স্কেল, শার্পনার লুকিয়ে নিয়ে আসে। অন্যের জিনিসের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দেওয়া বাচ্চাদের অনেক সময় সহজাত ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
এ ব্যাপারে শিশুটিকে মারধর না করে বরং যে জিনিসটা বাসায় নিয়ে এসেছে, এটা তার নয়, এটা বোঝাতে হবে। তাই, তারই হাত দিয়ে সেটা আবার ফিরিয়ে দিতে হবে। এভাবে দু-চার বার ফিরিয়ে দিলে তার সেই নেশা কেটে যেতে পারে।
একজন শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার জন্য আদর, ভালোবাসা প্রয়োজন। প্রত্যেক শিশুর মাঝে সৃজনশীল প্রতিভা থাকে। শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনে তার সৃজনশীলতা নষ্ট হয়ে যায়।
যে ব্যাপারে একটা শিশুকে মারধর করা হয়, সে ব্যাপারটা যদি তাকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে আনন্দের ভেতর দিয়ে পরিচালনা করা যায়, তাহলে সে সেই ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি ঘটাবে না। নিষ্পাপ শিশুটি ক্রমেই বড় হবে সমাজে মাথা তুলে দাঁড়াবে।