কিশোর চিন্তা

শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্কতা

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: প্রযুক্তির যেমন  ইতিবাচক দিক রয়েছে তেমনি নেতিবাচক দিকও যথেষ্ট। আর কোমলমতি শিশুরা এর নেতিবাচক প্রভাবেরই শিকার হচ্ছে বেশি। এই যেমন মোবাইল ফোন। এর ব্যবহারে শিশুদের ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশংকা সবচেয়ে বেশি।
মোবাইল ফোন একদিকে যেমন শিশুর স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য কেড়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে খেলার মাঠ ও স্বজনদের কাছ থেকেও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। শিশুরা গৃহবন্দী ও প্রাণচাঞ্চল্যহীন হয়ে পড়ছে। ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা নানা ধরনের ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
সম্প্রতি স্নোডেনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব তরুণ মোবাইলফোন ব্যবহার করে এবং যাদের বয়স ২০ বছরের কম, অন্যদের তুলনায় তাদের প্রায় ৫ গুণ বেশি আশংকা থাকে ব্রেন ক্যানসারের৷
অন্য আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, একটি দুই মিনিট স্থায়ী মোবাইল কল শিশুদের মস্তিষ্কে যে হাইপার অ্যাকটিভিটি সৃষ্টি করে, তা পরবর্তী এক ঘন্টা পর্যন্ত মস্তিষ্কে বিরাজ করে। এর ফলে শিশুরা নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে ব্রেন ক্যান্সার, ব্রেইন টিউমারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেশি।
কারণ, বড়দের চেয়ে শিশুদের রেডিয়েশন শোষণ শতকরা ৬০ ভাগ বেশি। আর যেহেতু শিশুদের চামড়া ও হাঁড় নরম, তাই এদের ক্যান্সার ঝুঁকিও বেশি। এ ছাড়াও অন্যান্য সমস্যার মধ্যে ক্লাস পারফরমেন্স কমে যাওয়া, খিঁচুনি, নির্ঘুমতা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।
আমরা জানি, মোবাইল ফোন রেডিয়েশন ছড়ায়। রেডিয়েশন প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, শিশুদের জন্য তা আরো মারাত্নক ক্ষতিকর, যা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশকে ব্যহত করে। সারা পৃথিবীতেই এখন শিশুরা প্রায় বেশিরভাগ সময়েই মোবাইল ফোন নিয়ে খেলা করে থাকে।
দিনের পর দিন এ হার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে শিগগিরই হয়তো সারাবিশ্বের শিশুরা একটি মহামারী রোগের শিকার হতে পারে এবং যা হতে পারে প্রাণঘাতি মস্তিষ্কের ক্যান্সার। গবেষণা থেকে আরো বেরিয়ে এসেছে, মোবাইল ফোন ব্যবহারে শিশুদের শ্রবণ ক্ষমতাও হ্রাস পায়।
শিশুদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে অভিভাবকদের সতর্ক হতে হবে। অভিভাবকরা জরুরি প্রয়োজনে তাদের সন্তানদের খোঁজ নেয়ার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহারে বাধা দেন না। জরুরি প্রয়োজনের কথা বাদ দিলে লক্ষ্য করা গেছে, শুধু বাইরে নয়, ঘরেও শিশুরা সারাদিন মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এককালে যে শিশুটি সারাদিন ঘরে ভাইবোন, বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে খেলাধুলা ও গল্প করে কাটাতো, কিংবা ক্লাসের বাইরে কোন বই পড়ে সময় কাটাতো, সেখানে এখন তারা মোবাইল ফোনে গেম খেলা থেকে শুরু করে ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অযাচিত সাইটগুলো দেখে সময় নষ্ট করছে।