ফিচার

সন্তানের নিরাপত্তায় বুলেটপ্রুফ স্কুলব্যাগ

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডে মার্জরি স্টোনম্যান ডগলাস হাইস্কুলে বন্দুক হামলার পর পুরো আমেরিকায় স্কুল শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। দাবি তুলেছে কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের। প্রশাসন এই ক্ষেত্রে কিছুটা নড়েচড়েও বসেছে। নিউজার্সিসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্কুলগুলোর সামনে বাড়তি নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও আশ্বস্ত হতে পারছেন না অভিভাবকেরা। তাঁরা বুলেটপ্রুফ স্কুলব্যাগের মতো বিভিন্ন ডিভাইসের ওপর বরং আস্থা রাখছেন।
৬ বছরের মেয়ে ডিলানের মা লিসা সিংগার। নিজের মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি জিওবিট নামের একটি ডিভাইস কিনেছেন। ফ্লোরিডা হামলার খবর পাওয়ার পরপরই শিশুদের জন্য বিশেষায়িত এই জিপিএস ট্র্যাকার কেনার ক্রয়াদেশ দেন নিউইয়র্কের এই মা। এই ডিভাইসের মাধ্যমে শিশুদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন অভিভাবক। অভিভাবকের কাছে থাকা একটি অ্যাপের মাধ্যমে তাঁরা সন্তানের অবস্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পান। একই সঙ্গে নিরাপদ অঞ্চল থেকে বেরিয়ে গেলে, সতর্কবার্তাও পাঠাতে পারেন তাঁরা। সিংগার জিওবিট ডিভাইসটিকে ডিলানের জুতোয় স্থাপন করার কথা ভাবছেন।
লিসা বলেন, ‘ডিলানকে সাহায্য করতে পারে, এমন কী কেনা যায়, তা-ই ভাবছিলাম আমি। তাকে নিয়ে আমি সব সময়ই দুশ্চিন্তায় থাকি। কিন্তু সে সব সময় আমার নাগালের মধ্যে থাকে না। এই জন্যই আমি ডিভাইসটি কিনেছি। তার স্কুলে কিছু ঘটলে, আমি অন্তত তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারব।’
সিংগার একা নন। এভাবে বিভিন্ন ডিভাইসেই সন্তানের নিরাপত্তার আশ্বাস খুঁজছেন অভিভাবকেরা। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বুলেটপ্রুফ ব্যাকপ্যাক। ফ্লোরিডা হামলার পর বুলেটব্লকার নামের একটি কোম্পানির এই ব্যাকপ্যাক বিক্রির হার বেড়েছে ৩০০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জো কুরান নিজেও এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন নিজের সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই। ২০০৭ সালে ভার্জিনিয়ায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বন্দুক হামলায় ৩৩ জন নিহতের ঘটনার পর তিনি এ ব্যবসা শুরু করেন।
স্কুলের ক্লাসরুমের নিরাপত্তার জন্যও রয়েছে বিভিন্ন ডিভাইস। এমনই একটি ডিভাইসের নাম ‘জাস্টিনকেস’। ১৭ বছরের জাস্টিন রিভার্ড এই বিশেষ ডিভাইস তৈরি করেছে। জাস্টিনকেস দরজার নিচে স্থাপন করলে, জোর করে দরজা খোলার সময় তা আটকে যাবে। ফলে কোনো স্কুলে বন্দুক হামলার সময় ক্লাসরুমে থাকা শিশুরা তুলনামূলক নিরাপদে থাকবে।
সম্প্রতি জাস্টিনকেস কিনেছেন ল্যারি গিলবার্ট। নিউইয়র্ক পোস্টকে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী একজন স্কুলশিক্ষক। সম্প্রতি যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তা আমাকে ভীষণভাবে শঙ্কিত করেছে। তার এবং তার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েই আমি চিন্তিত। স্কুলটিতে প্রাথমিক চিকিৎসা ও অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম রয়েছে। কিন্তু দরজায় বাড়তি নিরাপত্তা স্থাপনের জন্য আরও কিছু দরকার। আমি এটা কিনেছি একটু শান্তির জন্য।’
একইভাবে না হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজের মতো করেই হাঁটছেন নিউইয়র্কের এক মা। নিজের নাম প্রকাশ না করলেও তিনি জানান, সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে জোট গড়ার চেষ্টা করছেন। কাছের মানুষদের সন্তানদের নিয়ে ঘরেই স্কুল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন তিনি। এই ক্ষেত্রে নিজেরাই চাঁদা তুলে শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা করছেন তাঁরা।