কিশোর সংবাদ

রিয়াজের রোষে প্রাণ গেল শিশু সাকিবের

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: সাত–আট দিন আগে চাকরি চলে যায় কারখানা শ্রমিক রিয়াজ উদ্দিনের (১৮)। এ নিয়ে চিন্তিত ও ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। পাশের বাসার শিশু সাকিব প্রায় তাঁদের বাসায় এসে খেলাধুলা করত। গতকাল মঙ্গলবারও খেলতে আসে সে। এই সময় বাসায় কেউ না থাকায় তাকে চলে যেতে বলেন রিয়াজ। শিশুটি যেতে না চাইলে একপর্যায়ে রেগে গিয়ে তার গলা টিপে ধরেন রিয়াজ। এতে শ্বাসরোধে মারা যায় সে। পরে সাকিবের মৃতদেহ তাঁর মা–বাবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন।
এভাবেই খুনের বর্ণনা দিলেন রিয়াজ উদ্দিন। গাজীপুরের টঙ্গীর খাঁপাড়া এলাকায় তাঁর বাড়ি থেকে শিশু সাকিবের (৮) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যার অভিযোগে রিয়াজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।
টঙ্গীর খাঁপাড়া এলাকায় ব্র্যাক স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল সাকিব। সে নেত্রকোনার সোসংদুর্গাপুর থানার বিড়িসিড়ি গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে।
নিহত শিশুর পরিবার ও পুলিশ জানায়, নেত্রকোনার সোসং দুর্গাপুরের আলাল উদ্দিন সপরিবারে গাজীপুরের টঙ্গীর খাঁপাড়া এলাকায় ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাঁদের প্রতিবেশী রিয়াজ উদ্দিন। সাকিব খোলাধুলা করতে প্রায় প্রতিদিনই রিয়াজদের বাড়িতে যেত।
গতকাল বিকেল থেকে সাকিবকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এলাকায় মাইকিংও করে পরিবার। সকালে রিয়াজের মা তাঁদের ঘরের খাটের নিচে সাকিবের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি রিয়াজের পরিবার ও পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ সাকিবের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ রিয়াজকে আটক করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।