ফিচার

প্রথম এক বছরে শিশুর বিকাশ

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: প্রথম এক বছরে শিশুর বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। শিশুকালের প্রথম আট বছর অত্যন্ত জরুরী, বিশেষ করে প্রথম তিন বছর। এই সময়টা, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য বেড়ে ওঠা এবং বিকাশের ভিত্তি। এই সময়ে শিশুরা অন্য যে কোন সময়ের থেকে তাড়াতাড়ি শেখে। বাচ্চারা এবং ছোট ছেলেমেয়েরা তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে এবং তাড়াতাড়ি শেখে যদি তারা ভালবাসা, দেখাশোনা, উত্সাহ এবং মানসিক উদ্দীপনা পায় এবং তার সাথে পুষ্টিকর খাদ্য এবং সুস্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

প্রথমসব শিশুর জন্মের সাথে সাথেই আইনগত ভাবে নথিভুক্তি হবার, স্বাস্থ্যের যত্ন, ভাল পুষ্টি, শিক্ষা এবং কোনরকমের ক্ষতি, নির্যাতন এবং বৈষম্য থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে। এটা পিতামাতা এবং সরকারের নিশ্চিত করার দায়ি্ত্ব যাতে শিশুদের অধিকার স্বীকার এবং রক্ষা করা হয়।

এক মাস বয়স পর্যন্ত

একটি শিশুর পারা উচিৎঃ

  • গালে বা মাথায় হাত বোলালে সেদিকে মাথা ঘোরানো
  • উভয় হাত মুখের দিকে আনা
  • পরিচিত গলার আওয়াজ বা শব্দ শুনলে সেদিকে ঘোরা
  • স্তন চোষা এবং হাত দিয়ে ছোঁয়া

পিতামাতার করনীয়:

  • বাচ্চাকে এমনভাবে ধরুন যাতে চামড়ার সাথে চামড়ার সংস্পর্শ হয় এবং জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ান
  • বাচ্চাকে যখন খাড়া করে ধরবেন মাথায় সাপোর্ট দিন
  • প্রায়ই বাচ্চাকে ম্যাসাজ্‌ করুন এবং জড়াজড়ি করে আদর করুন
  • সবসময় বাচ্চাকে মৃদুভাবে ধরুন ক্লান্ত বা অশান্তি থাকলেও
  • প্রায়ই বুকের দুধ খাওয়ান, অন্ততপক্ষে চারঘন্টা পরপর
  • যতবার সম্ভব বাচ্চার সাথে কথা বলুন, কিছু পড়ুন বা গান করুন
  • জন্মের ৬ সপ্তাহ পরে বাচ্চাকে নিয়ে স্বাস্থ্য-কর্মীর কাছে যান

মাস বয়সে

শিশুর যা পারা উচিৎঃ

  • উবু হয়ে শুলে মাথা ও বুক উপরে তোলা
  • ঝুলছে এমন জিনিষ ধরার চেষ্টা
  • বিভিন্ন জিনিষ ধরা এবং ঝাঁকানো
  • দুদিকে ফেরা
  • সাহায্য নিয়ে বসা
  • হাত ও মুখ দিয়ে সব জিনিষ যাচাই করা
  • শব্দ এবং মুখের ভাব নকল করতে শুরু করা
  • নিজের নাম শুনলে বা পরিচিত মুখ দেখলে প্রতিক্রিয়া হওয়া

পিতামাতার করনীয়:

  • বাচ্চাকে একটা পরিস্কার, নিরাপদ সমতলে রাখুন, যাতে মুক্তভাবে নড়াচড়া করতে পারে এবং জিনিষপত্র ধরতে পারে
  • বাচ্চাকে তুলে ধরুন এমনভাবে, যেন সে আশপাশে কী হচ্ছে দেখতে পায়
  • দিনে রাত্রে, চাইলেই বুকের দুধ খাওয়ানো চালু রাখুন, তার সাথে অন্য খাবারও দিতে শুরু করুন (৬থেকে ৮ মাস বয়স পর্যন্ত দিনে দুবার, ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত দিনে তিন থেকে চারবার)
  • যতবার সম্ভব শিশুর সাথে কথা বলুন, পড়ুন বা গান শোনান

১২ মাস বয়সে

শিশুর যা পারা উচিৎঃ

  • সাহায্য ছাড়া বসা
  • হামাগুড়ি দেওয়া এবং দাঁড়িয়ে ওঠা
  • কিছু ধরে পা বাড়ানো
  • শব্দ এবং কথা নকল করার চেষ্টা করা এবং কিছু বললে বোঝা
  • খেলতে এবং হাততালি দিতে ভালবাসা
  • কোন শব্দ বা ভঙ্গীর পুনরাবৃত্তি করা
  • বুড়ো আঙুল এবং তর্জনী দিয়ে কোন জিনিষ তোলা
  • কোন জিনিষ ধরা, যেমন কাপ, চামচ, এবং নিজে নিজে খাওয়ার চেষ্টা করা

পিতামাতার করনীয়:

  • জিনিষের দিকে দেখিয়ে তার নাম বলুন, শিশুর সাথে প্রায়ই খেলুন ও কথা বলুন
  • খাবার সময় সবার সাথে মেলামেশায় উৎসাহ দিন
  • যদি শিশুর বিকাশ ধীরে হয় বা কোন অসামর্থ্য থাকে, যেসব সামর্থ্য আছে তাতে জোর দিন এবং বাড়তি উদ্দীপনা ও বেশী মেলামেশা করুন
  • বাচ্চাকে এক জায়গায় অনেকক্ষণ ছেড়ে রাখবেন না
  • দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য বাচ্চার আশপাশ যতটা সম্ভব নিরাপদ রাখুন
  • বুকের দুধ খাওয়ানো চালু রাখুন এবং খেয়াল রাখুন যেন পর্যাপ্ত খাবার থাকে, অনেকরকম বাড়ীর খাবারও যেন যথেষ্ট পরিমানে থাকে
  • শিশুকে কাপ ও চামচ দিয়ে নিজে খাওয়ার পরীক্ষা করতে দিন
  • শিশুর সব টীকাকরণ এবং পরামর্শ মত সব মাইক্রোনিউট্রিয়েণ্ট বিকল্প দেওয়া নিশ্চিত করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *