শিশুদের প্রয়োজন সুষম খাবার

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: এ ছাড়া অধিক জনসংখ্যার কারণে কিশোর-কিশোরীরা স্বাভাবিক পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। আর্থিক কারণে প্রয়োজনীয় খাবার খেতে না পারায় অপুষ্টির শিকার হয়। আবার যে পরিবারে অর্থের সমস্যা নেই, সেই পরিবারের ছেলেমেয়েরাও অতিরিক্ত পরিমাণে জাঙ্কফুড খাওয়ায় অপুষ্টির শিকার হতে পারে।
পুষ্টি সম্পর্কে অজ্ঞতা যেমন- বয়স অনুপাতে কতটুকু খাবার, কি খাবার, কত সময় পর পর খেতে হবে, তা অনেক মা-বাবাই জানেন না। এখানে সুষম খাবারের ঘাটতি দেখা যায়। অপুষ্টি দূর করতে হলে সুষম খাবার খেতে হবে। এটা শুধু কিশোর-কিশোরী নয়, সব বয়সের মানুষের জন্য প্রযোজ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপুষ্টির কারণে কিশোর-কিশোরীরা শারীরিক ও মানসিক উভয় ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারে। রক্তস্বল্পতা, মুখের কোনায় ঘা, পেটের অসুখ, রক্ত আমাশয়, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ, চোখের অসুস্থতা, চুল পড়া, পেটে কৃমি, দুর্বলতা, শারীরিক গঠন সুষ্ঠু না হওয়া ইত্যাদি শারীরিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারে।
এছাড়া অপুষ্টির কারণে কিশোর-কিশোরীর বিকাশ সঠিকভাবে হয় না। তার স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ পরিপূর্ণভাবে ঘটে না। বুদ্ধিগত বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে বড় হলে সেই কিশোর বা কিশোরী মেধাবী হতে পারে না। এ কারণে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
কিশোরী মায়েদের মাতৃত্ব সম্পর্কে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা না থাকার ফলে তার গর্ভধারণ হলে শিশুটির অপুষ্টি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অনেকে মনে করেন। সার্বিকভাবে দেশের কিশোর-কিশোরীদের অপুষ্টি দূর করতে ব্যাপক উদ্যোগ এখন থেকেই গ্রহণ করা প্রয়োজন।
শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো, উপযুক্ত সম্পুরক খাবার খাওয়ানো, ছয় মাস অন্তর অন্তর ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো এসব কার্যক্রম বাড়াতে হবে। শিশু বয়স থেকেই এটা করতে হবে। তাহলে শিশুদের অপুষ্টির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।