সাফল্য

সুকুমার বড়ুয়া – শিশু গৃহকর্মী থেকে একুশে পদক

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: সুকুমার বড়ুয়ার ছিলেন অনাথ এক শিশু। অন্যের বাড়িতে কাজ করে পেটের ভাত জুটত তার। তবু এরই মাঝে কিছুদিন মামা বাড়ি ও কিছুদিন দিদির বাড়িতে থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়তে পেরেছিলেন। এরপর তার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়।
জীবিকার তাগিদে এক সময় তিনি ফলমূল, আইসক্রিম ফেরি করতেন। এরপর ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি হিসেবে কাজ পান। পদোন্নতির পর তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত হয়ে স্টোর কিপার হিসেবে অবসর নেন।
১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে ছয় টাকা ভাড়ায় বেড়ার ঘরে বাস করেই স্বাধীনভাবে লেখালেখি শুরু করেন।
কচিকাঁচার আসর, খেলাঘর আর মুকুলের মাহফিলে তার লেখা ছাপা হতে থাকে। স্কুলের পাঠ্যবইয়েও সুকুমার বড়ুয়ার ছড়া পড়ানো হয়।
প্রায় ৬০ বছর ধরে শুধু ছড়া লিখে ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’, ‘ছড়াসম্রাট’ নানা অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন। সহজ-সরল কথায় ও ভাষায়, ছন্দ ও অন্ত্যমিলের অপূর্ব সমন্বয় দেখা তার চরায়।
উদ্ভট, ব্যঙ্গাত্মক, হাস্যরসাত্মক, কৌতূহলোদ্দীপক, নৈতিক শিক্ষামূলক রচনার পাশাপাশি গণমুখী, রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ তার রচনাবলী।
ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৭ সালে ‘একুশে পদক’ পান সুকুমার বড়ুয়া।