ফিচার

শিশুকে কীভাবে শেখাতে চান

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: শিশুকে কীভাবে শেখাতে হয় তা সবার জানা দরকার। এমন কখনো সম্ভব নয় যে একটা শিশু জন্ম নেবে আর সে কিছুই শিখবে না। সে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে নতুন কিছু শিখতে শিখতে বেড়ে ওঠে। কী সে শিখবে সেটা নির্ভর করে তার অবস্থানের ওপর। পৃথিবীর বদলের সাথে সাথে শিশুর শিখনমাধ্যমেরও আমূল পরিবর্তন ঘটেছে।
স্লেট-পেন্সিলের জায়গায় কাগজের খাতা আর কাঠপেন্সিল প্রতিস্থাপিত হয়েছে তো সেই কবে। এখন তারও প্রয়োজন পড়ে না। কাগজ কলমের কাছাকাছি যাবার আগেই শিশু বিস্তর শিখে যাচ্ছে। দুই থেকে আড়াই বছরেই সে রাইমস সহ আরো অনেক কিছু শিখে যায় স্ক্রিনে চোখ রেখে।
কোনো কোনো বাচ্চাকে আড়াই বছর পেরুতে না পেরুতেই স্কুল দিয়ে দেন তার অভিভাবক। এই বয়সী একটা বাচ্চা ‍যদি একটা সত্যিকারের খেলার স্কুলে যায় সেক্ষেত্রে আলাদা কথা।
কিন্তু আমাদের দেশে সত্যিকারের খেলার স্কুল কয়টা? বাচ্চা স্কুলে গিয়ে পড়বে না, খেলবে; খেলতে খেলতে যা শেখার শিখবে- এরকম ভাবনাতেই বা কতজন অভিভাবক স্থির থাকতে পারেন! যে অভিভাবক চান না তার সন্তানকে এই বয়সে বই খাতায় বন্দি করতে তিনি হয়তো একটা উপযুক্ত স্কুল খুঁজে পান না যেখানে পড়ার চাপ কম।
শিশু শিখবেই। হাসতে, খেলতে, খেতে, হাঁটতে, দৌড়োতেই সে শিখে নিতে পারে তার প্রয়োজনটুকু। আবারো বলছি যদি সত্যিই তার বয়স উপযোগী কোনো স্কুল থাকে সেখানে সে যেতেই পারে।
কিন্তু  বিদ্যার জাহাজ বানিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে শিশুদের ওপর চড়াও হয় যেসব স্কুল তাদের ব্যাপারে আরেকবার ভাবুন। আপনার ভাবনাও বদলে দিতে পারে গোটা পদ্ধতি।
পারিপার্শ্বিক অবস্থাদৃষ্টে বোঝা যায় সন্তান নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ সামাজিক চাপ। বাচ্চাকে স্কুলে দিয়েছ? কোথায় দিয়েছ? এখনো দাওনি! আমার মেয়ে/ছেলে তো এতকিছু শিখে ফেলেছে!! কিংবা ফেসবুকেই আনন্দিত মা-বাবা তাদের বাচ্চার ভালো রেজাল্টের খবর দিলেন।
এতে করে যারা হয়তো ভাবছেন বাচ্চাকে আরো পরে স্কুলে দেবেন কিংবা এত দ্রুত এত কিছু শেখাবেন না, ধীরে ধীরে শেখাবেন- তারা চাপ অনুভব করেন।
ভাবেন- পিছিয়ে পড়লেন না তো! কাজেই তাদের জন্য নির্লিপ্ত থাকা সহজসাধ্য হয় না। একটু একটু করেও যদি আমরা সচেষ্ট হই তাহলেও হয়তো বদলে যেতে পারে বর্তমান সময়ের শিশুদের বন্দিশৈশব।