ফিচার

রোহিঙ্গা সংকট: শিশুদের শৈশব ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুরা ভালো নেই। আশ্রয়শিবিরগুলোতে তারা ভয় আর হতাশায় ডুবে আছে। মিয়ানমারে নির্যাতন থেকে তারা হয়তো মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে যেখানে তারা আশ্রয় নিয়েছে, সেখানে বন্য হাতি, সাপের কামড় এবং রাতের বেলায় মানব পাচারের ভয় থেকে মুক্তি পাচ্ছে না শিশুরা। তাদের শৈশব ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটের ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিশুরা কেমন আছে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের যৌথ গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।
‘ছিন্নভিন্ন শৈশব: বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিশুদের কথা’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদনটি গতকাল রাজধানীর স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।
এ গবেষণা প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রকল্প উন্নয়ন পরিচালক রিফাত বিন সাত্তার। তিনি প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা শিশুদের মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার সময় দেখা বর্বর হত্যাযজ্ঞ, বাবা-মা হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গবেষকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রোহিঙ্গা শিশুরা শিবিরে শৌচাগার ব্যবহারের সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার কথা উল্লেখ করেন। নারী-শিশুরা পুরুষদের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বাঁশ ও পলিথিনের তৈরি তাঁবুতে বিভিন্ন সময় চোরের উপদ্রব এবং তাঁবুতে থাকা শেষ সম্বলগুলো হারানোর কথা উল্লেখ করে শিশুরা।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ শিশুই জঙ্গলে কাঠ সংগ্রহের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে। বনরক্ষীরা তাদের অনেক সময় লাঠি দিয়ে আক্রমণ করে, অনেকে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়; পাশাপাশি বন্য হাতি আর সাপের ভয় নিত্যদিনের সঙ্গী। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে কেউ কেউ ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।