কিশোরবাংলাপ্রতিবেদন: সংখ্যায় কম হলেও বহু শিশু-কিশোর একাত্তরের রনাঙ্গণে জীবন বাজি রেখে মুক্তিবাহিনীকে সহযোগীতা করেছে। কৌশলে তথ্য সংগ্রহ সহ গোলা-বারুদ পরিবহনের কাজও করেছেন দুরন্ত যোদ্ধারা। মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও লেখকরা বলেন, এমন যোদ্ধারা কাজগুলো তেমন ভেবেচিন্তে করে নাই।
ওদের তখন স্কুলে যাবার বয়স কিন্তু বাঘা মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মুক্তিযুদ্ধে শামিল হয়। পরিবারকে জানিয়ে কিংবা পালিয়ে দেশ স্বাধীনের যুদ্ধে অংশ নেয় এসব দুরন্ত যোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কখনো বুকে গ্রেনেড বেঁধে কিংবা অস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে হানাদার প্রতিরোধে। যুদ্ধে শহীদও হয় অনেক শিশু কিশোর।
রাতের আঁধারে কিংবা যে কোনো মুহূর্তে এক ক্যাম্পের খবর অন্য ক্যাম্পে পৌঁছে দেয়া, খাবার সংগ্রহ ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্তচর হয়ে পাকিস্তানি শিবিরে প্রবেশ করেন এসব বীররা। অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করার পাশাপাশি ইনফরমার হিসেবেও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছেন কেউ কেউ।
মুক্তিযুদ্ধের গবেষকদের মতে, ৭১ সালে প্রায় চার লাখ শিশু-কিশোর মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। যুদ্ধে তাদের বীরত্বপূর্ণ অবদান ও সাহসিকতার জন্য খেতাব দেয়া হয় প্রায় ২২ জন কিশোর মুক্তিযোদ্ধাকে। তবে সরকার নির্ধারিত সাড়ে ১২ বছর বয়সের কারনে কম বয়সী অনেকেই নেই মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়।
এমনকি স্বাধীনতার দীর্ঘ সময়ে কয়েকবার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা হলেও আলাদা করে তৈরি হয়নি কম বয়সী মুক্তিযোদ্ধার তালিকা। ফলে নেই তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান।