কিশোর চিন্তা

শিশুর পরীক্ষা ভীতি দূর করতে করনীয়

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: অনেক শিশুরই পরীক্ষা ভীতি থাকে। এই ভীতির কারণ এবং তা দূর করার উপায় জানা জরুরি। সব ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার ধরন একরকম নয়। আইকিউর দিক থেকে মাঝারি বা খাটো পড়ুয়ারা কোনো কিছু জানার ব্যাপারে খুব বেশি আগ্রহী হয় না। পড়ার বই তো বটেই, গল্পের বই পড়ার ক্ষেত্রেও তাদের অনীহা থাকে। তাদের মধ্যে অনেকে নিচু ক্লাসে ভালো রেজাল্ট করলেও যতই ওপরের ক্লাসে উঠতে থাকে, ততই তাদের রেজাল্ট খারাপ হতে থাকে।
পরীক্ষা এলে সব শিশুর মনেই ভয় কাজ করে। অনেক সময় পরীক্ষার ভয়ে তারা আত্মবিশ্বাসের অভাবে উত্তর জানা সত্ত্বেও পরীক্ষার খাতায় ভুল লিখে আসে। আসলে পরীক্ষার আগে ওদের মনে ফেল করার ভয় ঢুকে যায়। সেই সঙ্গে থাকে একাগ্রতার অভাব। এই দুয়ের কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতিও ঠিক মতো হয় না। ফলে চিন্তা বেড়ে গিয়ে সমস্যা বাড়তেই থাকে।
এ কারণেই এ সময় বাবা-মায়েদের আরো বেশি করে যত্নশীল হতে হবে তাদের প্রতি।
সিলেবাস কতটা আছে তার উপর ভিত্তি করে একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। আর সেই মতো কাজে লেগে যান। খেয়াল রাখবেন সময়ের মধ্যেই যেন সিলেবাসের সব পড়া যেন শেষ হয়ে যায়। হাতে সময় থাকতে থাকতে সব পড়া শেষ করার চেষ্টা করবেন। মনে রাখতে হবে পরীক্ষা যত এগিয়ে আসবে শিশু তত ভীতু হয়ে পড়বে। যার প্রভাব পড়বে পড়াশোনায়।
যদি দেখেন সে ঠিক মতো পড়ছে না তাহলে রাগ করবেন না। তাকে বোঝাবেন ফেল করার খারাপ দিকগুলো। তবে ভুলেও বেশি কড়াকড়ি করবেন না। এমনটা করলে পড়াশোনার প্রতি শিশুর আগ্রহ কমে গিয়ে অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। যতক্ষণ শিশু কোনো বিষয় বুঝতে পারছে না, ততক্ষণ তাকে বোঝান। এক্ষেত্রে কিন্তু আপনাকেই ধৈর্য ধরে এই কাজটি করতে হবে।
বারে বারে লিখিত পরীক্ষা নিন। একটা অধ্যায় পড়া শেষ হলেই তার উপর পরীক্ষা নিয়ে নিন। এমনটা করলে শিশুর তাড়াতাড়ি লেখার অভ্যাস হয়ে যাবে। ফলে পরীক্ষার হলে কোনো সময় নষ্ট হবে না। রিভিশন খুব দরকারি একটি জিনিস। তাই পরীক্ষার আগে শিশুর হাতে যাতে রিভিশনের সময় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
রুটিনমতো পড়াশোনা করতে হবে। পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে নেওয়া। রাত জেগে পড়াশোনা করা অনেকে কঠোর ও কার্যকর প্রস্তুতির নির্দেশক মনে করলেও আদতে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা- এ সময়টুকুই পড়াশোনার জন্য বেছে নেওয়া ভালো। রাত হবে ঘুমের জন্য।
দিন-রাত টানা পড়াশোনা করা উচিত নয়। মস্তিষ্কের বিশ্রাম প্রয়োজন। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শুধু পড়লেই হবে না। সময় ধরে উত্তর লেখার চর্চা করতে হবে। সুযোগ থাকলে অন্যের সঙ্গে আলোচনা করে পড়া যেতে পারে, অন্যের পড়া শোনা এবং পঠিত বিষয় নিয়ে আলোচনা  করলে পড়া মনে রাখতে সুবিধা হয়।