কিশোর সমস্যা

শ্রমজীবী মায়েদের শিশুর আশ্রয়ে দিবাযত্ন কেন্দ্র

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: মিরপুর এক নন্বরে মৌসুমী ফল বিক্রি করেন শ্রমজীবী মা মুক্তা বেগম। স্বামী নেশাগ্রস্ত, দুই ছেলে মাহিন (৫) ও জুনায়েদ (৩)। স্বামী এতোটাই বিপজ্জনক যে, বাচ্চাদের কাপড়, ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে নেশা করে। টাকা না পেলে মুক্তার ওপর চলে শারীরিক নির্যাতন। দুই সন্তানকে মানুষ করানোর ব্রত নিয়ে মুক্তা দিন শুরু করে।
ছেলেদের গোসল করিয়ে খাইয়ে দুইটি দড়ি দিয়ে খাটের সাথে বেঁধে রেখে যায়। সামনে দিয়ে যায় বিস্কুট, রুটি, কলা। খিদে পেলেই দুই ভাই খায়। পায়খানা প্রেস্রার সেখানেই সারে। মুক্তা এসে তা পরিষ্কার করে। একদিন এক আপা এ দৃশ্য দেখে মাহিন আর জুনায়েদকে মিরপুরের নাগরিক উদ্যোগ চালিত দিবাযত্ন কেন্দ্রে নেয়ার ব্যবস্থা করেন। তারপর থেকে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মুক্তা। এখন তারা পড়াশোনা করে উন্নত জীবন পাবে তাই সে দেখে যেতে চায়।
স্বপ্নপুরীর দিবাযত্ন কেন্দ্রের সুপার ভাইজার ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আদাবর এলাকায় এমন পেশাজীবী নারীদের জন্য একটি দিবাযত্ন কেন্দ্র আছে। তবে চাহিদা অনেক। প্রতিদিনই খুচরা ব্যবসায়ী, গৃহশ্রমিক, সবজি বিক্রেতা এসে ফিরে যায়, কারণ এখানে তাদের সন্তানকে এখানে রাখার জায়গা নেই।
ফরিদা আরো বলেন, রানাপ্লাজা ধসের পর ডোনাররা গার্মেন্টেসের মেয়েদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য এমন দিবাযত্ন কেন্দ্রের আগ্রহ প্রকাশ করে। আমাদের শুধু গার্মেন্টসের নয় বরং গৃহশ্রমিকসহ সব শ্রেণির শ্রমজীবী মায়ের জন্য এমন দিবাযত্ন কেন্দ্র দরকার।
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, বাবারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্তান ত্যাগ করলেও শ্রমজীবী মায়েরা অনেক অবস্থাতেই তাদের সন্তানকে ছেড়ে যান না। এই দিবাযত্ন কেন্দ্রের ৪৪ জন মায়ের মধ্যে ৩০ জনের একই অবস্থা। তারা অধিকাংশ স্বামী পরিত্যক্তা ও নেশাগ্রস্ত স্বামী এবং দুই-তিন বিয়ে করা স্বামীর স্ত্রী।