কিশোরবাংলাপ্রতিবেদন: ছোটবেলাতেই বই পড়ার অভ্যাস, অর্থাৎ স্কুলের বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য সব বই পড়ার অভ্যাসটা শিশুর মধ্যে তৈরি করে দেয়াটা খুব জরুরী। আমাদের অভিভাবকদের অনেকেরই ধারণা যে, গল্পের বই পড়ার মানে হচ্ছে স্কুলের পড়া থেকে অমনযোগী হয়ে প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়া! খুবই ভুল একটা ধারণা।
পুঁথিগত শিক্ষা থেকে জীবনশিক্ষাটা শৈশব থেকেই পেতে থাকাটা এক প্রকারের আশীর্বাদ। পড়াশোনা কোন প্রতিযোগিতার বিষয়ই নয়। শুধুমাত্র স্কুলের বই আপনার শিশুকে কোনদিনই বাস্তব জীবন সম্পর্কে সঠিক কোন ধারণা দিতে পারে না। আর বই বলতে শুধু গল্পের বই-ই বা হতে যাবে কেন? বই হতে পারে বিজ্ঞানের, হতে পারে ভ্রমণের, হতে পারে নিরেট আনন্দের কিংবা হতে পারে কারও জীবনী! বয়েস অনুযায়ী কোনটা বাচ্চার পড়া উচিত, তার ধারণা হয়ত আমাদের অনেকেরই নেই। সত্যি বলতে কি, বাচ্চার সামনে পড়ার মতো যা থাকবে, তা-ই গোগ্রাসে গিলে ফেলতে পারাটা এক ধরনের সফলতা।
পারিবারিকভাবে বাড়িতে বই পড়ার একটি পরিবেশ তৈরি করাটা দরকার। নানা পদের বই দিয়ে বেডরুমে একটা সংগ্রহশালা তৈরি করুন। বসার ঘর বা সুবিধামতো জায়গায় একটা লাইব্রেরি তৈরি করে ধরন অনুযায়ী বইগুলোকে আলাদা করে লেবেল করেও রাখা যায়
আজকের ইন্টারনেট, স্মার্ট ফোনের যুগে শিশুর নেশা নিবদ্ধ হয়ে থাকে অজানা ও স্পর্শকাতর জিনিসের প্রতি। সেজন্যেই, শিশুর পড়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিতে হবে যে, দিনের অমুক সময়টিতে প্রতিদিন একটি করে বই পড়তে হবে। এ কাজে উৎসাহিত করতে বাচ্চাকে ছোটখাটো পুরস্কার বা সারপ্রাইজ দেয়ার ব্যাবস্থাও রাখা যেতে পারে।
রাতে ঘুমানোর আগে শিশুকে বই দেখে পড়ে গল্প শোনাতে পারেন। এটাও একটা ভাল প্র্যাকটিস। আবার আপনি নিজে গল্প না পড়ে শিশুটিকে দিয়েও পড়াতে পারেন। এতে করে শিশুর উচ্চারণ ও জড়তা কেটে যাবে।
শিশুকে নানা ধরনের বই কিনে দিয়ে, সেগুলো পড়ে তার কী অনুভূতি হচ্ছে সেটা আলোচনার পাশাপাশি তাকে লিখতেও উৎসাহ দিতে পারেন। এতে করে তাদের মধ্যে লেখালেখির অভ্যেসটাও তৈরি হয়ে যাবে। ছড়ার বই কিনে দিয়ে, ছড়া বা কবিতা লিখতে উৎসাহ দিতে পারেন। আমার এক প্রতিবেশি শিশু গানও লিখে।
কোথাও বেড়াতে নিয়ে গেলে ফিরে এসে ডায়েরি লেখার মত করে তাকে ভ্রমণ কাহিনী লিখতেও উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। এতে ভ্রমন-সাহিত্যের প্রতি উৎসাহ বাড়তে পারে। এমনি করে যেকোনও বিষয়ে শিশুর মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি করে দেয়া খুবই সহজ। শুধু আগ্রহ তৈরি করে দিলেই হবে না, সেগুলোকে গুরুত্বও দিতে হবে আপনাকেই। নাহলে আবার আগ্রহ তৈরি হয়ে হারিয়েও যেতে পারে।