শিশু কিশোরদের জন্য অনলাইনে আসছে ‘কিশোর বাংলা’-র জুন সংখ্যা

কিশোর বাংলা প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী কোরোনাভাইরাস পরিস্থিতির মাঝেও নিয়মিত অনলাইনে প্রকাশিত হয়ে আসছে জনপ্রিয় শিশুকিশোরদের মাসিক ম্যাগাজিন ‘কিশোর বাংলা’। এবার অনলাইনে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ‘কিশোর বাংলা’র জুন সংখ্যা।

কিশোর বাংলা’র ওয়েবসাইট www.kishorebangla.com -এ ১০ই জুন, ২০২০ হতে সকলে বিনামূল্যে পড়তে পারবে এই সংখ্যাটি। বর্তমান কোরোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণের কারণে পাঠকদের জন্য ঘরে বসেই কিশোর বাংলা’র এই ঈদ, ২০২০ সংখ্যাটি পড়ার সুযোগ তৈরির জন্যই এই উদ্যোগ।

কিশোর বাংলা’র সম্পাদক মীর মোশাররেফ হোসেন জানান, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হলে কিশোর বাংলা’র অফিসে যোগাযোগ করলে মুদ্রিত সংখ্যাটি পাঠিয়ে দেয়া হবে গ্রাহকের ঠিকানায়।

আম-জাম-কাঁঠাল-লিচুর রসে ভরা মধুমাস জ্যৈষ্ঠের আবহ নিয়ে করা হয়েছে জুন সংখ্যাটি।  এই সংখায় গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ লিখেছেন মাহবুব রেজা, আহসান হাবীব, প্রণব মজুমদার, এমরান চৌধুরী, দেবব্রত মুখোপাধ্যায়, তারিক মনজুর, ইনাম আল হক, সিরাজউদ্দিন আহমেদ, সিরাজুল ফরিদ, জাহাঙ্গীর আলম জাহান, গোলাম কিবরিয়া পিনু, উত্তম সেন, আশরাফুল মান্নান, আহসান মালেক, মোহাম্মদ শাহ আলম, আইউব সৈয়দ, সৈয়দ সায়েম, ইমরুল ইউসুফসহ আরও অনেকে। এছাড়াও আছে গ্রাফিক নভেল ‘ক্রিকেটের আড়ালে’ সহ আরও একটি মজাদার কমিক্স। আরও আছে অনেক মজার সব লেখাসহ আমাদের নতুন অনেক বিভাগ।

কিশোর বাংলা’র সম্পাদক শিশুকিশোরদের উদ্দেশে বলেন, “বছর ঘুরে আবার এসেছে বিভিন্ন ফলের মধুমাখা জ্যৈষ্ঠ মাস। আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, তরমুজ – এমন অসংখ্য মজাদার ফলে ভরা এখন আমাদের চারপাশ। এসব ফলের রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণও। তাই তোমরা বেশি করে এইসব দেশী ফল খাও।“

সামনের ঋতু পরিবর্তনের ব্যাপারে শিশুকিশোরদের সতর্ক করে কিশোর বাংলা সম্পাদক বলেন, “এই গ্রীষ্মকালের পরই কিন্তু আসবে আষাঢ় মাস বা বর্ষাকাল। এই ঋতু পরিবর্তনের সময়টায় কিন্তু একটু সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, এই সময়ে নানারকম অসুখবিসুখ যেমন; জ্বরজারি, সর্দিকাশি ইত্যাদি হতে পারে। তাই, ঋতু পরিবর্তনের এই কালে অবশ্যই নেবে বাড়তি সতর্কতা।”

জুন মাসেই আছে ‘বাবা দিবস’। এই উপলক্ষকে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “এই জুন মাসেই কিন্ত ‘বাবা দিবস’। আমাদের বাবা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করে থাকেন, ত্যাগ স্বীকার করে থাকেন। আমাদের একজন ভালো ও সফল মানুষ হয়ে উঠার পেছনে বাবাদের থাকে অনেক অবদান। তাই, বাবার প্রতি তোমাদের এই ভালবাসা ও শ্রদ্ধা সুন্দরভাবে প্রকাশ করো ২১ জুন – বাবা দিবসে। বাবাকে দিতে পারো একেবারেই তোমাদের নিজহাতে বানানো একটি উপহার।”

শিশুকিশোরদের করোনাকালীন সতর্কতাগুলো আবারও মনে করিয়ে দিতে তিনি বলেন, “বন্ধুরা, তোমাদের স্কুল-কলেজ এখনও বন্ধ। কিন্তু, সাধারণ ছুটি শিথিল করা হয়েছে। তাই হয়তো, বাবা-মা অফিসে যাচ্ছে, বিভিন্ন প্রয়োজনে হয়তো তোমরাও বাইরে বের হও। কিন্তু, মনে রেখো, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখনও একটুও কমেনি। তাই, এখন তোমাদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। বারে বারে হাতমুখ ধোবে, বাইরে যাবার সময় অবশ্যই বাসার সবাইকে মাস্ক ও গ্লাভস পরতে হবে আর বাসায় এসেই ভালোভাবে সবাই পরিষ্কার হয়ে নেবে। ঘনঘন পানি খাবে এবং অবশ্যই ঠাণ্ডা কিছু যেমন; আইসক্রিম, বরফ বা ঠাণ্ডা পানি খাবে না। সর্বোপরি, যতোটা সম্ভব ঘরেই থাকবে।”

বর্তমানের এই অবসর সময়টাকে গঠনমূলকভাবে কাজে লাগানোর উপর জোর দিয়ে তিনি শিশুকিশোরদের উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, “এই লম্বা অবসরে যেমনটা তোমাদের আগেও বলেছি, স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও, অবশ্যই প্রতিদিনই একটু পড়াশুনা করবে। আর এই অবসর সময়টায় আমাদের সৃজনশীল কাজ যেমন; গান শিখা, ছবি আঁকা, বই পড়া, কোনো কিছু বানানো অথবা ডাইরি লেখায় মনোযোগ দেয়া উচিৎ। কারণ, আবারও বলছি, আজকের অবসরের এই কাজগুলোই কিন্তু একদিন তোমাদের সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যেতে পারে।”

রাজধানীর বাসাবো এলাকার বাসিন্দা তাজওয়ার অঙ্কন জানায়, “আমি কিশোর বাংলার একজন নিয়মিত পাঠক। করোনাভাইরাসের কারণে যখন সবকিছু বন্ধ হয়ে গেল, সব বইয়ের দোকানগুলোও বন্ধ – খুব মন খারাপ হয়ে গিয়েছিলো কিশোর বাংলা পাব না ভেবে। কিন্তু, কিশোর বাংলা যে আমাদের কথা ভেবে, ঘরে বসেই অনলাইনে কিশোর বাংলা পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে, তার জন্য আমি অনেক খুশি। তার ওপর এটা বিনামূল্যেই পড়তে পারছি। এটা সত্যিই এই সাধারণ ছুটিতে আমাদের জন্য কিশোর বাংলার পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ উপহার।

খুলনা থেকে গৃহিণী শিউলী হক জানান, “প্রতি মাসে আমার ছেলেমেয়েরা কিশোর বাংলার জন্য উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করে। এই বন্ধেও সম্পূর্ণভাবে করোনাভাইরাসের ঝুঁকিমুক্ত থেকেও যে বিনামূল্যে কিশোর বাংলা অনলাইনে পাচ্ছি, তার জন্য কিশোর বাংলা পরিবারকে ধন্যবাদ।“

এছাড়াও কিশোর বাংলা’র এপ্রিল, ২০২০ ও ঈদ সংখ্যা, ২০২০ এর মতো জুনে, ২০২০ সংখ্যাও বর্তমান সময়ের প্রয়োজনে অনলাইনে প্রকাশ ও বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ করে দেয়ার এই উদ্যোগকে শিশুকিশোর, অভিভাবক, লেখক, সাহিত্যিকসহ সকলেই সাধুবাদ জানান।