কিশোর বাংলা প্রতিবেদন : বর্ণিল আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থী ঢলের মধ্যে রঙিন বেলুন উড়িয়ে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আজ সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় রাজধানীর আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাঠপুস্তক উৎসব উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী।
রঙ-বেরঙের সাজে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ। কচি-কাঁচাদের হাতে হাতে নানান রঙের সাজ, আকাশে রঙিন বেলুন, মাঠজুড়ে কোলাহল, ব্যান্ডের তাল- সব মিলে বর্ণিল আয়োজন। সবকিছু মিলিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে হচ্ছে বই বিতরণ উৎসব।
হাতে নতুন বই, মুখে হাসি উৎসবের আমেজ। নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা সারা দেশের কয়েক কোটি শিশু। নতুন বছরের প্রথম দিন আজ সোমবার সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিয়ে ‘বই উৎসব’ উদযাপন করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ঢাকায় দু’টি কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান হচ্ছে। দুই মন্ত্রণালয়ই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসব করে বই বিতরণ করছে।
স্কুল মাঠে এ উৎসব আয়োজনে নতুন বই ও রঙিন সাজে সজ্জিত হয়ে যোগ দেয় রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। উৎসবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
গত কয়েক বছরের মতো আজো নতুন ইংরেজি বর্ষের প্রথম দিন উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনামূল্যের বই বিতরণ করা হচ্ছে। শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা খালি হাতে স্কুলে আসবে, আর নতুন ঝকঝকে বই নিয়ে ঘরে ফিরবে। নতুন বছরে নতুন শ্রেণীতে ওঠার উচ্ছ্বাস আর নতুন বইপ্রাপ্তির আনন্দ দুয়ে মিলে খুশির বন্যা বয়ে যাবে দেশের প্রতিটি স্কুলে।
২০১৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিনামূল্যের ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চার কোটি ৪২ লাখ চার হাজার ১৯৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে।এনসিটিবি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গতকালের মধ্যেই চাহিদামতো সব বই পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের অনেক আগে থেকে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হলেও ২০১০ সাল থেকে প্রথম থেকে নবম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীদের এ সুবিধার আওতায় এনেছে আওয়ামী লীগ সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি বলছে, গত বছরের চেয়ে এবার ১০ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৬ জন শিক্ষার্থী বেড়েছে। ফলে এবার ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৯টি বই বেশি ছাপানো হয়েছে।
গত আট বছরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২২৫ কোটি ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫০টি বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে সরকার।
This slideshow requires JavaScript.
নববর্ষে এসে মোট ২৬০ কোটি ৮৮ লাখ এক হাজার ৯১২টি বই বিতরণকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এবারের বইগুলো ভালোমানের কাগজে ছাপা হয়েছে। বইগুলো আকর্ষণীয় ও রঙিন। নবম-দশম শ্রেণির ১২টি সুখপাঠ্য বই দামি কাগজে রঙিন ছবিসহ ছাপা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে দুই কোটি ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বই বিতরণ করা হবে। প্রাথমিক স্তরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ১০ কোটি ৩৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৮০টি এবং প্রাক-প্রাথমিকে ৩৪ লাখ ১১ হাজার ৮২৪টি ‘আমার বই’ এবং ৩৪ লাখ ১১ হাজার ৮২৪টি অনুশীলন খাতা বিতরণ করা হবে।
চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদরী এই পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষার প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ৩৪ হাজার ৬৪২টি ‘আমার বই’ ও অনুশীলন খাতা দেয়া হবে। এছাড়া উল্লিখিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রথম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের মোট ৭৯ হাজার ৯৯২টি বই বিতরণ করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন) স্তরের এক কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯৩ জন শিক্ষার্থীকে এবার বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক দেয়া হবে। ১১৪টি বিষয়ের ১৭ কোটি ৮৯ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৩টি বই ছাপানো হয়েছে। এছাড়া ইবতেদায়ি ও দাখিলের ৫৪ লাখ ৩ হাজার ৪৬৯ শিক্ষার্থীকে ১২৪টি বিষয়ের পাঁচ কোটি ৭৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৯টি বই দেয়া হবে। অন্ধদের জন্য এবারও ব্রেইল পদ্ধতির আট হাজার ৪০৫টি বই ছাপানো হয়েছে।
উৎসবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা উপস্থিত রয়েছেন। এনসিটিবির আয়োজনে উৎসবে রাজধানীর বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যোগ দেবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বই বিতরণ উৎসবের আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি রয়েছেন গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আসিফ-উজ-জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালও উপস্থিত রয়েছেন।
এর আগে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
দেশজুড়ে একযোগে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বিতরণের জন্য শতভাগ বই ১ জানুয়ারির আগেই চলে গেছে।
Related