ফিচার

কোরবানির পশু নিয়ে শৈশবের কৌতূহল

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: আমাদের শৈশব-কৈশোরের দিনগুলোর ঈদ আনন্দটা ছিল সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি-ভালবাসা-আন্তরিকতায় মাখামাখি। বর্তমানে যা অনেকাংশেই আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে।
কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে পশুর লালন-পালন, তাকে খাওয়ানো, গোসল করানো এমনকি পশুকে সজ্জিত করার কাজগুলো আমরা উৎসাহচিত্তে করতাম।
বিশেষ করে গ্রামের ঈদ উৎসবগুলোতে ঈদ এলেই একটা সাজ-সাজ রব পড়ে যেত। পশু কেনার জন্য বাবা-চাচার হাত ধরে পশুর হাটে যাওয়া। পশু পছন্দের ক্ষেত্রে আমাদেরকেই অগ্রাধিকার দেয়া হতো। পশু কেনা হয়ে গেলে পশুর গলার দড়ি হাতে বাড়ি অবধি নিয়ে আসা।
পথে পথে মানুষের কৌতূহলি জিজ্ঞাসা-কত দিয়ে কেনা হলো, আনন্দচিত্তে তার উত্তর দেয়া, এসবই ছিল প্রাথমিক আনন্দ। এরপর বাড়িতে এলে পশুকে রাখার জন্য জায়গা তৈরি করা। তার খাবার ব্যবস্থা করা। আপন উদ্যোগে কাঁঠাল পাতা, কলাপাতা সংগ্রহ করে গরুর মুখের কাছে ধরা।
বিকেল হলে আবার প্রতিবেশী বন্ধু বা সহপাঠীরা মিলে নিজেদের কোরবানির পশু নিয়ে একত্রে খোলা মাঠে গিয়ে ঘাস খাওয়ানো।
কোরবানির দিন পশু জবাইয়ের পর মাংস বানাতে সবার সঙ্গে নিজেও বসে পড়তাম দা-বটি নিয়ে। মাংস বানানো শেষে ভাগ করে নিজেদের জন্য একাংশ রাখা, গরিবদের জন্য একাংশ আর নিকটাত্মীয়দের জন্য একাংশ বাড়ি বাড়ি পৌঁছানো, এসব নিয়েই এক অনন্য আনন্দে কাটত আমাদের সেই সময়ের ঈদ।