কোরবানির ঈদে শিশুর জন্য মাংস

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: কোরবানির ঈদে আনন্দের বড় অংশজুড়ে থাকে রান্না আর খাওয়া। প্রতিবেলার খাবারে থাকে গরুর মাংসের মুখরোচক সব পদ। ছোট্ট শিশুরা মাংস কতটুকু, কিভাবে খাবে সে বিষয়ে কিছু আলোচনা করা হল-
ছয় মাস বয়সের পর থেকে যেকোনো খাবার অল্প পরিমাণে বাড়তি খাবার হিসেবে মায়ের দুধের পাশাপাশি দেওয়া যেতে পারে। চাইলে এই সময়ে গরুর মাংসও কিমা বা ভর্তা করে খিচুড়ির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
তবে প্রথমদিকে টানা দুই বা তিন দিন গরুর মাংস দিয়ে দেখতে হবে শিশুর অ্যালার্জি বা অন্যকোনো সমস্যা হয় কি না। খাসির মাংসের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। টানা দুই-তিন দিন একটু করে খাওয়ানোর সুবিধা হলো, এতে খাবারে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত সেটি বন্ধ করা যায়।
সমস্যা না হলে সপ্তাহে দুই-তিন দিন শিশুকে গরু বা খাসির মাংস দিতে নিষেধ নেই। রেড মিটে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও জিংক রয়েছে, যা সহজেই শিশুর শরীর গ্রহণ করতে পারে। ছয় মাস বয়সের পর শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির জন্য যে অতিরিক্ত পরিমাণ আয়রন ও জিংক প্রয়োজন তার খুব ভালো উৎস হতে পারে গরু বা খাসির মাংস।
এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের জন্য মাংসের কিমা ও ডাল দিয়ে কাবাব বানিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। এক বছর থেকে চার বছর পর্যন্ত শিশুদের দৈনিক ২-৩ আউন্সের বেশি রেড মিট খেতে নিষেধ করা হয়। পাঁচ বছরের পর থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত ৪ থেকে ৬ আউন্স পর্যন্ত রেড মিট খেতে পারবে। এটা সাধারণ হিসাব। তবে কোরবানির মতো উৎসবের সময় এই হিসাব মেনে চলা একটু কঠিন। উৎসবের সময় শিশুরা ইচ্ছামতো মাংস খেতে পারে।
তবে এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। খাবারের তালিকায় মাংসের পরিমাণ বেশি হলে  কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। প্রতিবেলায় শিশু যতটুকু মাংস খাবে তার সমপরিমাণ রান্না করা শাকসবজি ও কাঁচা সালাদ খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি মৌসুমি ফল, ফ্রেশ জুস, দই বা লাচ্ছি দিতে হবে এবং সবচেয়ে জরুরি হলো প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা।