কিশোর মাদকাসক্তির কারন ও তার প্রতিকার

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: আজকের কিশোর আগামী দিনে জাতির কর্ণদ্বার। কিন্তু সেই কিশোর যখন মাদকের ছয়লাপে নিজেকে ভাসিয়ে দেয় তখন আশাহারা মায়ের মত হতাশার চাদরে মুখ ডেকে জাতিকে কাঁদতে হয়।
আমাদের দেশের শিশু আইন ও জাতি সংঘের সনদ অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী সবাই কে শিশু বলে। এই বিভিন্ন বয়সী শিশুরা আজ মদ, গাজা, আফিম, পেথোড্রিন, হেরোইন, সিসা ও ইয়াবার সয়লাভে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। ওরা শুধু তাদের জীবন ধ্বংস করছে না, সাতে সাতে ধ্বংস করছে একটি মায়ের আশা আর জাতির আগামী।
বিভিন্ন তথ্য মতে, আমাদের দেশের মোট জন সংখ্যার ৪৫ ভাগ শিশু। এই মোট সংখ্যার মধ্যে আবার ৪০ ভাগ দরিদ্র সীমার নীচে বাস করে। বাংলাদেশ শিশু ফোরামের তথ্য মতে, আমাদের দেশে মোট পথ শিশুর সংখ্যা ১০ লাখ। এই পথ শিশুদের মধ্যে আবার ৮০ ভাগ মাদকাসক্ত। ১৯৮২ সালের ঔষধ নীতি অনুসারে মাদক দ্রব্য নিষিদ্ধ ঘোষনা  করলেও সরকারী ও বেসরকারী খামখেয়ালীপনার কারনে তা কঠোর হস্তে দমন করা সম্ভব হচ্ছেনা।
কিশোরদের মাদকাসক্তির কারনঃ
  • কিশোরদের মাদকের প্রতি আসক্তির বহু কারন বিদ্যমান।তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
  • পরিবারের অসচেতনা মূলতো সন্তানের মাদকাসক্ত হওয়ার আসল কারন।
  • বাবা-মায়ের মধ্যে মনো মালিন্য হলে সন্তান দুশ্চিন্তায় ভোগে। এক সময় বাবা-মা’র ছাড়া-ছাড়ি হলে সন্তান হতাশা ভুলতে মাদকে আসক্ত হয়।
  • প্রেমে ব্যর্থ হয়ে কিংবা বন্ধুর আচরণে কষ্ট পেয় একটি কিশোর মাদকাসক্ত হতে পারে।
  • “সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে”। তাই খারাপ বন্ধুদের সাতে মিশে মাদকাসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • অনেক কিশোর-কিশোরী স্যোসাল মিডিয়া কিংবা সিনেমা দেখে সেটাকে ফ্যাশন মনে করে মাদকাসক্ত হয়।
  • ধর্মীয় অনুশাসনের অবক্ষয় এর কারনে কিশোররা মাদকাসক্ত হয়।
  • “মাদক দ্রব্য সংগ্রহ আইন-১৯৯০” কঠোর ভাবে পালন না করার কারনে কিশোররা সহজে মাদকের সাতে জড়িয়ে পড়ে।
মাদক থেকে উত্তরণের উপারঃ
  • মাদক গ্রহণ সমস্যা যত না সামাজিক বা রাস্ট্রীয় তার চেয়ে বেশি মনস্তাত্বিক।তাই,কিশোরদের ভিতরে মনস্তাত্বিক বিপ্লবের মাধ্যমে মাদকের ভয়াভহতা বুঝাতে হবে। সেই সাতে তারা যেন বাবা-মা’র মনো মালিন্যের কারনে কিংবা অন্য পারিবারিক কারনে হতাশ না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভা সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে মাদকের কুফল তুলে ধরে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
  • দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মাদক বিরোধী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।
  • কিশোরদের মধ্যে মাদকাসক্ত উল্লেখযোগ্য অংশ স্কুল ও কলেজের ছাত্র/ছাত্রী। এদের কে শিক্ষকদের মোটিভেশিনের আওতায় এনে অভিভাবকদের সাতে যোগাযোগ করে সম্মিলিত চেষ্টার মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে সরিয়ে আনা উচিৎ।
  • স্থানীয় পর্যায়ে মাদক সেবীদের চিকিৎসা কেন্দ্র গঠন করে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের কে মাদক থেকে সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আসা সম্ভব।