কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধে স্কুলের ভূমিকা

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধে স্কুলের বড় ভূমিকা রাখা দরকার। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ আত্মহত্যা করে, যার বড় একটা অংশ হল স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা। পড়াশুনার চাপ, অভিভাবকদের প্রত্যাশার চাপ, বয়:সন্ধিকালীন পরিবর্তন, স্কুলে বন্ধুদের কটুকথা, ভর্ৎসনা শোনার মতো ক্ষমতা তাদের হয়না। এসময় যদি তারা পরিবার, সমাজের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পায় তবে তারা আত্মহত্যার দিকে পা বাড়ায়।
প্রতিটি ছেলে-মেয়ের মেধা বা আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো সমান নয়। কিন্তু সমাজ তাদের এক ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ ভালো করছে। আবার যারা ভালো করতে পারছে না, তাদের সামাজিকভাবে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ চাপ থেকেও কৈশোরে অনেক সময় আত্মহত্যাপ্রবণতা তৈরি হয়। এসব বিষয়ে এখনই আমাদের সচেতন হতে হবে। তা না হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।
আত্মহত্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে স্কূল । স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি সুন্দর মনোরম, আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করা। এর ফলে শিক্ষার্থীদের স্কুলের প্রতি আকর্ষণ বাড়বে। আমাদের দেশে অধিকাংশ সময়ে দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে যেতে চায়না, সেখানে তাদের ভালো লাগেনা কারণ তারা স্কুলে আনন্দ খুঁজে পায়না।
ছাত্র-ছাত্রীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য স্কুলের সাথে সন্তানের পিতা-মাতার অর্ন্তভুক্তি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যখন পিতা-মাতা ছাত্র-ছাত্রীদের আত্মহত্যার ট্রিগারিং ফ্যাক্টরগুলো সম্পর্কে জানতে পারবে তখন তারা নিজেরা পরিবারে সেই ফ্যাক্টরগুলো নিয়ে কাজ করতে পারবে, নিজেদের পারিবারিক পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হবে।
সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করার মাধ্যমে আত্মহত্যা কমিয়ে আনা সম্ভব। স্কুলে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করার জন্য শুধু স্কুল চেষ্টা করলে সফল হওয়া কঠিন। স্কুলের সাথে সাথে যদি সমাজের আরো নানা প্রতিষ্ঠান, , ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলো, কমিউনিটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুলো একযোগে কাজ করলে ছাত্র-ছাত্রীদের আত্নহত্যার হার কমানো অনেক সহজ হবে।
আত্মহত্যাপ্রবণতা প্রতিরোধে পরিবারকেই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্তান কী করছে, কোথায় যাচ্ছে, সর্বোপরি তারা কী চায়— তা মা-বাবাকে ভালোমতো নজরে রাখতে হবে। আমরা মনে করি, দৃঢ় পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যাপ্রবণতা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।