অসুস্থ নানি -র জন্য শিশুর ভালোবাসা

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: ক্লারিসার বয়স যখন চার সপ্তাহ তখনই স্পষ্ট হয়েছিল, সে তার নানি গ্র্যানি ডেনিসের চরম ভক্ত হবে ও তাদের মধ্যকার ভাবের সম্পর্ক রূপ নেবে গাঢ় বন্ধুত্বে। এই বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল শুক্রবার এক রাতে। ওই দিন ক্লারিসাকে ডেনিসের কাছে রেখে তার মা-বাবা বাইরে গিয়েছিলেন বিশেষ সময় কাটাতে।
সেই থেকেই স্কুলের ছুটির দিন এবং ইংল্যান্ডের কর্নওয়াল ভ্রমণে গিয়ে মজা-মাস্তি একসঙ্গে করে এই যুগল। সবকিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু মস্তিষ্কে অ্যানিউরিজম বাড়তে থাকায় হতাশায় ভুগতে শুরু করেন ডেনিস। বর্তমান চার বছর বয়সী ক্লারিসা বিষয়টি বুঝতে পারে। নানিকে হাসিখুশি রাখতে সে নিজেই কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
ক্লারিসা জানত নানি ডেনিস আবেগঘন চিঠি খুব ভালোবাসে। তাই ক্লারিসা মা ফেলিসিটি গ্রিনফ্লিডের সঙ্গে পরিকল্পনা করে আগামী মার্চে নানি ডেনিসের ৫২তম জন্মদিনে তাঁকে লেখাবিহীন বইয়ের (স্ক্র্যাপবুক) সঙ্গে বেশকিছু ভালোবাসাময় চিঠি উপহার দেবে।
জানুয়ারির শেষের দিকে এ রকম চিঠি পেতে ফেসবুকে আহ্বান জানান ফেলিসিটি। কিছুদিন পরই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামতে থাকে চিঠির ঢল। প্রথম সপ্তাহে ক্লারিসা ও তার মা হংকং, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৬০টি চিঠি পায়।
ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ারে বসবাসরত ফেলিসিটি গ্রিনফ্লিড বলেন, ‘নানিকে উদ্দীপিত করতে নিজেই বিশেষ কিছু করার সিদ্ধান্ত নেয় সে (ক্লারিসা)। আমার মায়ের সঙ্গে ক্লারিসার স্মৃতিতে বেশকিছু বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে এবং সেগুলো সে গভীরভাবে লালন করে। ক্লারিসার জীবনে এমন একটি দিন নেই যে নানির সঙ্গে তার কথা হয়নি।’
ক্লারিসার কাছে ডার্বি কাউন্টি ফুটবলার, তার প্রিয় স্থান কর্নওয়ালের ডানকি স্যাংকচুয়ারিসহ বিখ্যাত জাগয়া থেকে চিঠি এসেছে। গ্রিনফ্লিড বলেন, ‘প্রথম আমরা এটা ঠুকনো বিষয় মনে করেছিলাম। ছোট এই বিষয় এখন বড় ধারণা হিসেবে হাজির হয়েছে। আমি মনে করি, নানির প্রতি ছোট্ট শিশুর ভালোবাসার জন্য এত মানুষকে এখানে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা ২০৭টি চিঠি হাতে পেয়েছি। আশা করি মার্চের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়বে।’