বন্ধ
কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: ১৬ বছর ধরে বন্ধ থাকা শহীদ আফসার উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নে কোলচর গ্রামের এই স্কুলটি নিয়মিত শিক্ষার ধারায় ফিরছে আ‍গামী জানুয়ারিতে।
এ প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মোস্তাফা কামালের বক্তব্য, প্রয়োজনে অন্যত্র থেকে শিক্ষক এনে শিক্ষার্থী ভর্তি ও ক্লাশ শুরুর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। 
বিবাদে যুক্ত দুটি পক্ষের মধ্যে ইতিমধ্যে একটি পক্ষ মামলায় রায় পেয়েছে বলে শুনেছি, যদি তাতে সমস্যার সমাধান হয় তবে কোন সমস্যা নেই। অন্যত্র থেকে শিক্ষক এনে শিক্ষার্থী ভর্তি ও ক্লাশ শুরু করার চিন্তাভাবনা নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
পাঠদান বন্ধ থাকায় অন্যের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত বিদ্যালয় ভবনের জরাজীর্ণ দশা কাটাতে অল্প সময়ের মধ্যেই উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আফসার উদ্দীনের নামে ১৯৭৫ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে বিদ্যালয়টি নিবন্ধিত হয়, ২০১৩ সালে জাতীয়করণও হয়ে যায়। তবে জাতীয়করণের আগে ১৯৯৮ সালে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এলজিইডি প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করে দেয়।
শুরুতে আবদুল করিম হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তিনজনকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। ওই সময় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
পরবর্তীতে, ১৯৯০ সালের পর পরিচালনা কমিটি নিয়ে এলাকার দুটি পক্ষ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় আবদুস ছাত্তার আলীর পক্ষ আবদুল করিম হাওলাদারকে প্রধান শিক্ষক করে চারজন শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নেয়। আর জাফর আলীর পক্ষ সৈয়দ এনায়েত করিমকে প্রধান শিক্ষক ও অপর তিনজনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর ১৯৯৮ সালে ভবন তোলার পর দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়।