মোসাম্মৎ সেলিনা হোসেন :  শিশু-কিশোরদের সুস্থ্য ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে এবং তাদের মানসিক বিকাশে যেটা জরুরি তাহলো সন্তানকে বাবা-মায়েরা পর্যাপ্ত সময় দেবেন। কিন্তু সময়টা যেভাবে দেবেন তার একটা ছঁক তৈরি করুন। গবেষণায় দেখা গেছে, বাবা-মায়ের কাছে পর্যাপ্ত সময় পেয়েছে এমন সন্তানরা অত্যন্ত সুখী এবং সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে পারে। 
সন্তান যত বড়ই হোক বাবা-মায়ের কাছে তারা সেই ছোট্টটিই থেকে যায়। কিন্তু মা-বাবাকে এটা মনে রাখতে হবে, শৈশব থেকে কৈশোরে পা দেওয়ার পর সন্তানদের মধ্যে নানা রকমের পরিবর্তন ঘটে। শারীরিক, মানসিক পরিবর্তনের কারণে নানা অনুভূতি তাদের ভিতরে ঘুরপাক খায়, তখন পরিবারের মা-বাবার উচিত সন্তানকে বেশি সময় দেওয়া।
গুরুত্বপূর্ণ সময়টিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তার মা-বাবার। তা ছাড়া পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে বড় বন্ধন আর কি কিছু আছে? তাই জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট ফেমিনা জানিয়েছে কিভাবে শিশুকিশোরদের সঙ্গে সময় কাটাবেন।
সম্পর্ক সুদৃঢ় করুন
কতটুকু সময় দিলেন এটা বড় ব্যাপার না, লক্ষ্য রাখুন যেন তাদের সঙ্গে একটা মানসম্মত সময় কাটাতে পারেন। সন্তানের মনের অবস্থা জানার জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন।
একসঙ্গে খাওয়ার চেষ্টা করুন
রাতের খাবারটা সব সময় পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়ার চেষ্টা করুন। সবার সঙ্গে খাবারের টেবিলে সময় দিলে সম্পর্ক উন্নত হয়।
পছন্দের জিনিসে আগ্রহ দেখান
একসঙ্গে বসে ভালো সময় কাটানোর জন্য তাদের পছন্দের কিছু করুন। অনেক সময় তারা ভিডিও গেম খেলতে পছন্দ করে, তাদের পছন্দের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে সময় দিন।
নতুন কিছু শেখান
কৈশোরের প্রথম পর্যায়ে সন্তানদের মনের পরিবর্তন সঙ্গে সঙ্গে তাদের পছন্দের ধরন পাল্টাতে থাকে। এ সময় তারা অনেক কিছু শিখতে চায়। শেখার ক্ষেত্রে বাধা না দেওয়াই ভালো। বরং ভাষা শিক্ষা বা যন্ত্রসঙ্গীত শিক্ষা শিশুদের মেধা বিকাশে সাহায্য করে।
ঘুরতে বের হন
ভালো সময় কাটানোর জন্য দূরে কোথাও ঘুরে আসতে পারেন। এতে মন ভালো হবে এবং আপনার সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হবে।
 
 
লেখক পরিচিতি : মোসাম্মৎ সেলিনা হোসেন, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক।

2 COMMENTS

  1. আসলে আমাদের সন্তানের বিকাশের জন্য আমাদের মা-বাবার ভুমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ। ইন্টারনেটের যুগে আমরা সন্তানকে কোন সময়ই দিতে পারিনা।কেউ চাকরী কিংবা ব্যবসা নিয়ে এতই ব্যস্ত,সন্তান আমাদের কাছে কোন ভালবাসাই পায় না। বছরে কোন একদিন একটা ছুটির দিনে হয়তো আমরা আমাদের বাচ্চাকে নিয়ে একটু সময় দিই।কিন্তু সেটা আমার মনে হয় যথেষ্ট নয়। আমার মা বলতেন অন্তত রাতে খাবার টেবিলে সকলকেই একত্রিত হয়ে খাবারে খাওয়া উচিত। তাহলে সারাদিনের ক্লান্তি যেমনটা কাটে তেমনই মনের অনেক গুরুত্বপুর্ণ কথাও শেয়ার করা যায়।
    পরিশেষে বলি “কিশোর বাংলা” খুব ভাল লাগলো।

  2. মোসাম্মৎ সেলিনা হোসেন, আপনার উপস্থাপনাটি খুবই উপকারী ও সুন্দর।আমার সন্তানের ক্ষেত্রেও আমি এই উপদেশ ও পরামর্শগুলি মেনে চলার চেষ্টা করব।ভালো থাকবেন।

LEAVE A REPLY