অতিরিক্ত

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: শিশু অতিরিক্ত চঞ্চল হলে অভিভাবকের কাজ অনেক বেড়ে যায়। শিশুরা দুষ্টমি করবে- এটাই স্বাভাবিক। দুরন্তপনা ও দুষ্টমির মধ্যদিয়ে শিশুর কৌতূহলী মন সব সময়ই নতুন কিছু শিখতে চায়। মাত্রাতিরিক্ত দুষ্টমি যখন ওদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায়, দৈনন্দিন কাজকর্ম এমনকি খেলাধুলাতেও সে পর্যাপ্ত মনযোগ দিতে পারে না, তখন অবশ্যই অভিভাবকের বিষয়টা খতিয়ে দেখা দরকার।

শিশুর অতিরিক্ত চঞ্চলতা, অমনোযোগিতা বা অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি ) এখন বেশ প্রচলিত সমস্যা। এর ফলে শিশুটি হয়তো বেশি অস্থির হয়ে পড়ে। শিশুটি হয়তো ক্লাসে এক জায়গায় বসে থাকতে পারে না, লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে পারে না। ফলে তার পড়াশোনায় ক্ষতি হয়। পরবর্তী সময়ে পারিবারিক জীবনেও এর প্রভাব পড়ে। শিশুদের চঞ্চলতা কয়েক ধরনের হতে পারে ।

অতি চঞ্চলতা: এই শিশুরা কোথাও দুই-এক সেকেন্ডের বেশি স্থির হয়ে বসে থাকতে পারে না। সবসময় উসখুস করে, হাত-পা ছোড়াছুড়ি করে।

অমনোযোগী: ইচ্ছা থাকলেও এই শিশুরা কোন কাজে মনোযোগ দিতে পারে না। মনোযোগের অভাবে কোন কাজই এরা সুন্দরভাবে শেষ করতে পারে না। স্কুলের বই খাতা হারিয়ে ফেলে, সমবয়সী কারও সঙ্গেই ওদের বন্ধুত্ব হয় না।

হঠাৎ কিছু করে ফেলার প্রবণতা: নিজের আবেগের উপর এই শিশুদের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কাজের পরিণতি সম্পর্কে না ভেবেই হুট করে এরা কিছু একটা করে ফেলে। এতে অনেক সময় নানারকম বিপদ ঘটে যেতে পারে।

বাবা-মায়ের করণীয়:

বয়স বাড়তে থাকলে, মানসিক বৃদ্ধি হতে থাকলে কিছু শিশু এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা যদি এটিকে সমস্যা হিসেবে ধরি এবং বাবা-মা যদি এটা না বোঝেন তখন পরিবারের মধ্যে অশান্তি হতে পারে। শিশুদের যদি বড়রা সাহায্য না করেন তাহলে শিশুরা যখন বড় হয়, যখন চাকরিতে প্রবেশ করে, তখন অন্যের সঙ্গে হয়তো মিশতে সমস্যা হয়। বিভিন্ন জায়গায় সমস্যায় পড়ে। অনেক সময় তো মাদকও গ্রহণ করতে পারে বিষণ্ণতা থেকে। এসবের ফলে নিজের পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো হয় না। সারাক্ষণ টেলিভিশন দেখা বা কম্পিউটারে গেম খেলা – এগুলো শিশুকে একটি বিশেষ দিকে আবদ্ধ করে রাখে। এর ফলেও এডিএইচডি হতে পারে। মস্তিষ্কেও এর থেকে সমস্যা হতে পারে।

আর চঞ্চলতা যদি ছয় মাসের বেশি হয়, তখন এটাকে সমস্যা বলা যাবে। যদি এক মাস হয় বা কয়েক দিনের হয় তবে সেটিকে এডিএইচডি বলা যাবে না। জানতে হবে শিশুর কেন এই অস্থিরতা হচ্ছে। এমন হতে পারে শিশুর হয়তো খুব কাছের একজন কেউ মারা গেল, সে সময় সে খুব অস্থির হয়ে পড়েছে। তখন এটি সাময়িক।

শিশুকে ঘুমানোর আগে যদি ছড়া শোনানো যায়, গল্প বলা যায় , শারীরিক স্পর্শ দেওয়া যায় তখন এটি বেশ কাজে আসে। শিশুর ভালো লাগে এমন মজার কাজ তাদের করতে দিতে হবে। তাহলে সে অনেকক্ষণ হয়তো সেটি করবে।

LEAVE A REPLY