প্রতিষ্ঠানে

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: শিশুর জন্য চাই সুন্দর আগামী । আর তার জন্য প্রয়োজন নিরাপদ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে বিনোদনের অভাব। যান্ত্রিক বিনোদনের প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর।

রাজধানীর স্কুলগুলোতে শিশুদের তো ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বেশির ভাগ স্কুলে মাঠ বা খোলা জায়গা না থাকায় স্কুলে গিয়েও চার দেয়ালে বন্দী। রাস্তার গাড়ির হর্ন, জ্যাম, ধুলায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে শিশু। আর যাদের পড়াশোনার বাইরে গান, নাচ বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় নামতে হয়, তাদের ছুটির দিনগুলোও নিমেষেই উধাও। এর বাইরে বাড়িতে গৃহশিক্ষক ও ধর্মীয় শিক্ষক তো আছেই।

দেশের স্কুলগুলোতে শিশুদের জন্য বিশ্রাম, অবকাশযাপন, বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক ও শিল্পচর্চা কার্যক্রম না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশু অধিকার কমিটি।

শিশুদের বিনোদনের পথ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। শিশুরা টেলিভিশন দেখে, কিন্তু তাতে শিশুতোষ অনুষ্ঠান নেই। ভিডিও গেমস বেশির ভাগই শিশুবান্ধব না। এ ধরনের বিনোদনে শিশুর সামাজিক দক্ষতা কমে যাচ্ছে।

বর্তমানে বিনোদন ও অবসরের অভাব এবং পড়াশোনার চাপে শিশুদের আচরণগত বিভিন্ন সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

সরকারের জাতীয় শিশুনীতিতে খেলাধুলা, শারীরিক ব্যায়াম, সাংস্কৃতিক, বিনোদন ও অবকাশযাপনে সবার সমান সুযোগের বিধান রাখা হয়েছে। এটি শুধু কাগুজে বিধান হিসেবেই বিবেচ্য।

গ্রামীণ শিশুরা এখন পর্যন্ত তবু কিছুটা নিজেদের মতো করে বিনোদনের পথ খুঁজে নিতে পারে। শহুরে শিশুদের সে সুযোগ নেই। শহরে শিশুপার্ক, খোলা জায়গা বা বিনোদনের জায়গার অভাব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাঠ নেই। পাড়া-মহল্লায় শিশুদের বিনোদনের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে যথেষ্ট গবেষণারও ঘাটতি রয়েছে।

খেলাধুলাকে শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে, কারণ এ খেলাধুলা ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ভূমিকা রাখবে। যথাযথ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ না হলে কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়া যায় না, স্কুল পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে অনেক ক্রীড়াবিদ তৈরি হচ্ছে। তাদের মধ্যে থেকেই ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে।

LEAVE A REPLY