এই সময়ে
হোম / কিশোর সংবাদ / শিক্ষার্থীদের পারাপারে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো, তৈরি হয়নি ব্রিজ
নীলফামারী

শিক্ষার্থীদের পারাপারে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো, তৈরি হয়নি ব্রিজ

কিশোর বাংলা প্রতিবেদনঃ নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নে চিনির কুঠি বাজার সংলগ্ন যমুনেশ্বরী নদী পারাপারে নেই কোনো ব্রিজ, ফলে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করছেন শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার এলাকাবাসী। তাই নদী পারাপারে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি করে আসলেও ফল মেলেনি বলে দৈনিকশিক্ষা ডটকমকে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানায়, উত্তরশশী ধনিপাড়া, ফকিরের ডাঙ্গা, কারবালার ময়দান, হুসেনটারীসহ কয়েকটি এলাকার প্রায় ৫-৬ হাজার লোকের বসবাস যমুনেশ্বরী নদীর পাড়ে। নদী পাড়ের মানুষ হওয়ায় নানা প্রয়োজন মেটাতে প্রায় প্রতিদিনই নদী পার হতে হয় এসব এলাকার লোকজনকে। কিন্তু নদী পার হওয়ার জন্য নেই কোনো সুব্যবস্থা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি মাত্র বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হতে হয় তাদের। এদিকে, নদী পারাপারের একমাত্র উপায় বাঁশের সাঁকোটিও গত দুই সপ্তাহ আগে বর্ষার প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। এ অবস্থায় নদী পারাপারে কিছু দিন কলা গাছের ভেলা ব্যবহার করলেও পরে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে আবার বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন।

এদিকে, প্রায় অর্ধশত বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় জন প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। কিন্তু জনদুর্ভোগ লাঘবে একাধিকবার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে কোনো ফল পায়নি বলে দৈনিকশিক্ষা ডটকমকে জানান তাঁরা।

যমুনেশ্বরী নদী সংলগ্ন কানিয়ালখাতা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী শরিফা আক্তার, ৯ম শ্রেণির ময়না আক্তার, জান্নাতুন ফেরদৌসী, রিনি আক্তারসহ অনেকেই জানান, বর্ষা এলে আমাদের স্কুল যাতায়াতে খুব কষ্ট হয়। ভয় লাগলেও পড়ালেখার জন্য খুব কষ্ট করে নদী পার হই। কারণ আমাদের একমাত্র যাতায়াতের খুব কাছের পথ এটি।

নীলফামারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইবনাত মুবাশ্বিরা মেঘলা দৈনিকশিক্ষা ডটকমকে বলেন, আমি এখানে বাবার অপেক্ষায় আছি। আমি একা বাঁশের উপর দিয়ে পার হতে পারি না। ভয় লাগে যদি পা পিছলে পড়ে যাই।

কানিয়ালখাতা দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র রায় দৈনিকশিক্ষা ডটকমকে বলেন, বর্ষা মৌসুম এলে ঐ এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কমে যায়। পানির উপর নড়বড়ে বাঁশের উপর দিয়ে ঝুলন্তভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে বিদ্যালয়ে আসে না। অতিদ্রুত যমুনেশ্বরী নদীতে দ্রুত ব্রীজ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হবিবর রহমান দৈনিকশিক্ষা ডটকমকে বলেন, চিনির কুঠি বাজার সংলগ্ন যমুনেশ্বরী নদীতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে ব্রিজ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিশু, কিশোর, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিতে আসা জনগণ।

আরও দেখুন

বঙ্গবন্ধু

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

কিশোর বাংলা প্রতিবেদনঃ বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার ১৫ আগষ্ট উদযাপন উপলক্ষে গত ৪ আগষ্ট টুঙ্গিপাড়ায় …