মোটা

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: চার দশকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শিশু-কিশোরদের মোটা হয়ে যাওয়ার হার বেড়েছে ১০ গুণ। এ মুহূর্তে বিশ্বের ১২ কোটি ৪০ লাখ ছেলেমেয়ে খুবই মোটা। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্য বেরিয়েছে।

চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত সেই গবেষণা প্রতিবেদনে দুই শতাধিক দেশের শিশু-কিশোরদের মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রতি ১০ জনে একজন স্থূলকায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটা হয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের প্রাপ্তবয়সেও একই অবস্থায় থাকার আশঙ্কা বেশি। এ ধরনের লোকজন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে।

আজ ১১ অক্টোবর বিশ্ব স্থূলতা দিবসে (ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ডে) ল্যানসেটে তাদের বিশ্লেষণটি প্রকাশ করে। সেই বিশ্লেষণে বিশ্ব স্থূলতা ফেডারেশনের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ২০২৫ সাল থেকে স্থূলতাজনিত অসুস্থতায় ভোগা রোগীদের চিকিৎসায় প্রতিবছর খরচ হবে ৯২ হাজার কোটি পাউন্ড।

স্থূলতাবিষয়ক প্রকল্পের অন্যতম গবেষক লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের অধ্যাপক মাজিদ ইজ্জতি বলেন, ইউরোপের উচ্চ আয়ের অনেক দেশে শিশুদের স্থূলতার হার দৃশ্যত স্থিতিশীল। তবে বিশ্বের অন্য প্রান্তে সেটি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

গবেষকরা মনে করেন, সস্তা এবং স্থূল করে দেয় এমন খাবার সহজলভ্য হয়ে ওঠা এবং এসব খাবারের ব্যাপক প্রচারণা এর জন্য দায়ী। স্থূলতার হার সবচেয়ে বেশি পূর্ব এশিয়ায়। চীন এবং ভারতে সম্প্রতি এই হার ফুলে-ফেঁপে উঠতে দেখা গেছে। পলিনেশিয়া এবং মাইক্রোনেশিয়ায় রয়েছে সর্বোচ্চ ওবেসিটির হার। এসব দেশের প্রায় অর্ধেক তরুণ জনগোষ্ঠীই হয় স্থূল নয়তো অতিরিক্ত ওজনের।

গবেষকরা জানান, শীঘ্রই ‘অপুষ্টি’ শব্দটির স্থান নিয়ে নেবে ‘ওবিস’ বা স্থূলতা শব্দটি। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে অপুষ্ট অর্থাৎ স্বল্প ওজনের ছেলে-মেয়ের সংখ্যা কমছে। ২০১৬ সালে অপুষ্ট মানুষের সংখ্যা ছিল ১৯ কোটি ২০ লাখ। সংখ্যাটা অবশ্যই স্থূল শিশু-কিশোরদের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু সেদিন হয়তো আর দূরে নয়, যেদিন স্থূলদের সংখ্যাই বেড়ে যাবে।

পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান দেশগুলো কয়েক দশকের মধ্যেই স্থূলতাকে অপুষ্টির জায়গা নিতে দেখা গেছে।