এই সময়ে
হোম / কিশোর সমস্যা / বরিশালে খেলার মাঠ রক্ষায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিক্ষোভ
বিক্ষোভ

বরিশালে খেলার মাঠ রক্ষায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিক্ষোভ

কিশোর বাংলা প্রতিবেদনঃ বরিশাল নগরীর রূপতলীতে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মাঠ দখল করে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণ চেষ্টার প্রতিবাদে দিনভর বিক্ষোভ করেছে সুবিধাবঞ্চিত, নিপীড়িত শিশু-কিশোরীরা।

একমাত্র খেলার মাঠটি রক্ষায় না খেয়ে বিক্ষোভের সময় অঝোড়ে কেঁদেছে এসব শিশু-কিশোরীরা। সোমবার সকাল থেকে কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে ব্যাট-বল, ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রীসহ বিকাল পর্যন্ত বিক্ষোভ করে তারা।

জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য আনা নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে না নেয়া পর্যন্ত খাবার গ্রহণ না করে তারা কেন্দ্রের ফটকের সামনে অবস্থান নেয়ার কথা বলেন। খেলার মাঠ রক্ষার এই দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানাতে চায় তারা।

বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সমাজসেবা বিভাগের উপ-পরিচালক শাহাপাড় পারভীন ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখানে অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর শিশু-কিশোরীরা। বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে খাবার গ্রহণ করেন।

কেন্দ্রের নিবাসী নগরীর এ ওয়াহেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী তানজিলা আক্তার বলেন, ‘কেন্দ্রের মধ্যে এতবড় অফিস ভবন নির্মাণ করা হলে আমাদের খেলাধুলাসহ সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকতে হবে আমাদের।’

পুনর্বাসন কেন্দ্রের নিবাসী ও এ ওয়াহেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী নিকিতা আক্তার বলেন, ‘ইতোপূর্বে আমাদের একটি ভাড়া ভবনে থাকতে হয়েছে। সেখানে স্কুলে যাওয়া ছাড়াও বাকি সময়টাতে বন্দিজীবন কাটাতে হয়েছে। সেখান থেকে আমাদের এই পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করায় এখানে আমরা খেলার মাঠ পেয়েছি। কিন্তু এখন সেই মাঠটিতেও এখন ভবন নির্মাণের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। আমরা আমাদের একমাত্র খেলার মাঠটিতে কোন ভবন নির্মাণ করতে দেব না। এজন্য তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।’

শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপ-প্রকল্প পরিচালক শুভংকর ভট্টাচার্য জানান, ‘২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ২০১৬ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ খাতের আওতায় সরকারি কর্মসূচির আদলে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের কার্যক্রম চলছে।’

বরিশালে এই কার্যক্রমের আওতায় সোমবার পর্যন্ত ৯৪ জন সুবিধাবঞ্চিত ও আইনি সাহায্যপ্রার্থীসহ ১৪ কেটাগরির শিশু-কিশোরীর বসবাস। এর আগে একটি ভাড়া বাড়িতে তাদের কার্যক্রম চলত। তারা সেখানে বন্দিজীবন কাটাতেন।

২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর রূপাতলীতে সমাজসেবা বিভাগের অব্যবহৃত স্থাপনা ও জমিতে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে খেলার মাঠসহ সুপরিসর জায়গা রয়েছে। তবে এখানে বালিকাদের (মেয়ে) একটি ডরমেটরির পাঁচটি কক্ষে থাকার ব্যবস্থা হলেও ৯২ জন বালক (ছেলে) শিশু-কিশোরদের এখনো ভাড়া ভবনেই থাকতে হচ্ছে।

সম্প্রতি ওই স্থানে জেলা সমাজসেবা বিভাগের বহুতল অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণের টেন্ডার হয়। সোমবার সকালে ঠিকাদারের লোকজন মালামালসহ কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে আসলে শিশু-কিশোরীরা তাদের খেলার মাঠ এবং খোলামেলা জায়গা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কেন্দ্রের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে শেখ রাসেলের ছবি এবং বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্লাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় শিশুদের কাঁদতে দেখা যায়।

সমাজসেবা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শাহাপাড় পারভীন বলেন, ‘রূপাতলীতে সমাজসেবা বিভাগের জায়গায় জেলা অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে। ভবনের প্লানসহ সাইট প্লান পাস হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য ঠিকাদার মালপত্র এনেছে। এতে শিশুরা তাদের খেলার মাঠ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে।’

তিনি বলেন, ‘শিশু-কিশোরীরা দুপুরের খাবার গ্রহণ না করে বিক্ষোভ করছিল। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে শান্ত করে খাবার খাওয়ানের ব্যবস্থা করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে যাব। এ নিয়ে আমরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেব। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই শিশুদের দাবি এবং কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।’

আরও দেখুন

ফাস্ট ফুড

ফাস্ট ফুড শিশু-কিশোরদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে

কিশোর বাংলা প্রতিবেদনঃ খেতে সুস্বাদু হওয়ায় গোটা বিশ্বে ফাস্ট ফুড এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে। …