এই সময়ে
হোম / কিশোর সমস্যা / ফ্ল্যাটজীবনে বন্দি ঢাকার শিশুদের বিনোদন

ফ্ল্যাটজীবনে বন্দি ঢাকার শিশুদের বিনোদন

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: ঢাকার ফ্ল্যাটজীবনে বন্দি শিশুদের বিনোদন এখন লুপ্ত হওয়ার পথে। স্কুল, পড়াশোনা, কম্পিউটার, ভিডিও গেমস আর টেলিভিশনের বৃত্তে বন্দি শিশুরদের বিনোদন। খেলার মাঠ, সাঁতার, ক্রিকেট, ফুটবল, মাঠে ছোটাছুটি_এগুলো তাদের জন্য টেলিভিশনে দেখা এক বিষয়ের নাম।  রাজধানীতে শিশুদের বিকাশে যে পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা থাকা উচিত, তার ছিটেফোঁটাও নেই। নেই এলাকাভিত্তিক তেমন কোনো খেলার মাঠও।

ঘরের কোনায় থাকতে থাকতে তাদের প্রয়োজনীয় মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশু-কিশোররা। পারিবারিক জীবনেও মা-বাবা কর্মজীবী হওয়ায় বা নিজ কাজে ব্যস্ত থাকায় তারা বাচ্চাদের জন্য যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। ফলে শিশুরা বাড়ির কাজের লোকের কাছে কিংবা ডে-কেয়ার সেন্টারে বেড়ে উঠছে। কৈশোরের আনন্দহীন জীবনে অভ্যস্ত শিশুদের মনোজগৎ এবং স্বাস্থ্যেও এর প্রভাব পড়ছে।

ফ্ল্যাটে বন্দি শিশুরা পড়াশোনার চাপে বিপর্যস্ত। মা-বাবার ইচ্ছা পূরণের জন্য কেউ কেউ গান, নাচ, ছবি আঁকা ইত্যাদি শিখতে যায়। কখনো তা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু বয়স অনুযায়ী বিনোদন, খেলাধুলা এবং সৃষ্টিশীল কাজে যুক্ত থাকার সুযোগ অনেকটাই সীমিত। বন্দি শিশুর শৈশব : শিশুরা বাসা থেকে স্কুলে যায়। বাসায় চার দেয়াল, স্কুলেও তাই। ফলে চার দেয়ালেই বন্দি থাকে শিশুর শৈশব-কৈশোর।

শিশুরা একসঙ্গে খেলবে, ঝগড়া এমনকি মারামারিও করতে পারে৷ এটাই স্বাভাবিক৷ ঘরের কোণে বসে সারাক্ষণ ভার্চুয়াল গেমে ব্যস্ত থাকা স্বাভাবিক নয়৷ এটা শিশুর জন্য ক্ষতিকর বিনোদন৷ তাকে সামাজিক জীব হিসেবে বেড়ে উঠতে দিতে হলে খেলার মাঠে যেতে দিতে হবে৷ অন্যান্য শিশুর সঙ্গে মিশতে দিতে হবে৷ কবিতা, গান, বিতর্কসহ নানা সহশিক্ষামূলক বিনোদনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে

শিশুর সঠিক বিনোদনই তার পরিপূর্ণ বিকাশে সহায়তা করে৷ আর এই বিনোদন ঘরে-বাইরে-স্কুলে সবখানেই তাকে দিতে হবে৷ শিশুদের বিনোদনের দু’টি দিক৷ এক. মানসিক বিকাশ এবং দুই. শারীরিক বিকাশ৷ তাই শিশুদের বিনোদনের জায়গা সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে৷ বিষয়গুলো হতে হবে ইন্টারঅ্যাকটিভ৷

শিশু যেমন তার নানা বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটাবে খেলা বা বিনোদনের মধ্য দিয়ে, তেমনি বাইরে খেলার মধ্য দিয়ে তার সামাজিকতা বৃদ্ধি পাবে, শরীর গঠন হবে৷

শিশুদের সামাজিক কাজে অংশগ্রহণও তাদের জন্য বড় একটি বিনোদন৷ স্কুল বা অভিভাকদের উচিত তাদের কোনো সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত করা৷ কোনো ভালো বা সহযোগিতামূলক কাজে অংশ নেয়ার ব্যবস্থা করা৷ পরিচ্ছন্নতা অভিযান, গাছ লাগানো, শীতবস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণ ইত্যাদি এর উদাহরণ হতে পারে৷ এর মধ্য দিয়ে শিশুর মানবিক এবং সামাজিক দিক বিকশিত হবে৷

আরও দেখুন

ফাস্ট ফুড

ফাস্ট ফুড শিশু-কিশোরদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে

কিশোর বাংলা প্রতিবেদনঃ খেতে সুস্বাদু হওয়ায় গোটা বিশ্বে ফাস্ট ফুড এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *