এই সময়ে
হোম / পড়াশুনা / চরসল্যা প্রাথমিক বিদ্যালয় অনুসরণীয়
চরসল্যা

চরসল্যা প্রাথমিক বিদ্যালয় অনুসরণীয়

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: নোয়াখালী সদরের ধর্মপুর ইউনিয়নের অজপাড়া ধর্মপুর গ্রামের চরসল্যা ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নিয়ে গর্ববোধ করে এ এলাকার মানুষ। প্রাথমিক শিক্ষায় এ প্রতিষ্ঠানকে অনুসরণীয় মনে করেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি দোতলা ও দুটি একতলা ভবন নিয়ে চরসল্যা ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশের আগেই যে কারো চোখ জুড়িয়ে যাবে। ভবনের কোলঘেঁষে ফুলের বাগান, টমেটো গাছ। তিনটি ভবনেরই আলাদা নাম, দোয়েল, শাপলা ও কাঁঠাল। শ্রেণীকক্ষগুলো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে।
বিদ্যালয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীকক্ষ। নাম দেয়া হয়েছে শেখ রাসেল। কক্ষের সামনে ঝুলছে লাল-সাদা পর্দা, মাঝখানে বিশাল ফুলের ঝাড়। মেঝেতে লাল কার্পেট আর চার দেয়ালে সাজানো পতাকা-বর্ণমালা, ফল-পাখি- প্রকৃতি-সংখ্যা-ফুলের ছবি। সেই সঙ্গে দেয়ালে দুই স্তরে তাকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে পুতুল, বর্ণমালা, অংক শেখার উপকরণ, হরেক রকম খেলনা।
পঞ্চম শ্রেণীর জন্য বরাদ্দ দুটি কক্ষের মধ্যে একটির নাম সার্জেন্ট জহুরুল হক ও আরেকটি জহির রায়হান কক্ষ। সেগুলোর দেয়ালে আঁকা মুক্তিযোদ্ধা, শিল্পী, লেখক, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছবি। এছাড়া প্রাকৃতিক নানা দৃশ্যও রয়েছে। টানানো রয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। শ্রেণীকক্ষগুলো ঠাসা শিক্ষার্থীতে। একই অবস্থা চতুর্থ শ্রেণীর জন্য ভাষা শহীদ আবদুস সালাম এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর জন্য মুনির চৌধুরী কক্ষে।
দোয়েল ভবনের দোতলায় উঠতেই সিঁড়িঘরের পাশে ‘সততা স্টোর’। দেয়ালে লেখা ‘মহানুভবতার দেয়াল’। চিত্রাঙ্কনও স্থান পেয়েছে দেয়ালে। দ্বিতীয় তলায় শিক্ষকদের সাজানো সুন্দর পরিপাটি কক্ষ। বারান্দার এক পাশে পর্দা দিয়ে আলাদা করা প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামাদি, অন্যপাশে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সাজানো বিজ্ঞানাগার।
পড়ালেখার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো করছে খেলাধুলা ও স্কাউটিংয়ে। গত দুই বছর শিক্ষার্থীরা জেলা পর্যায়ে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে।
ক্লাসের পাঠদানের ক্ষেত্রেও রয়েছে অনন্য ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আলাদা টেবিলে বসে। ফলে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের নেয়া হয় বাড়তি যত্ন। ছাত্র ব্রিগেড গঠন করে অনিয়মিত ছাত্র-ছাত্রীদের খোঁজখবর নেয়া, ক্লাস ফাঁকি ও ঝরে পড়া রোধ করা হচ্ছে। এছাড়া মা সমাবেশ, উঠান বৈঠক, হোম ভিজিট করেন শিক্ষকরা। অভিভাবকদের সহযোগিতায় মিড-ডে মিলের ব্যবস্থাও আছে। ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম বিভাগের সেরা প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয় এটি।
বর্তমান প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন ২০১৫ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়টি বদলে যায়।

আরও দেখুন

বরিশাল

এইচএসসিতে বরিশালে বৃত্তি পাচ্ছেন ৬১৫ শিক্ষার্থী

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: বরিশাল বোর্ড থেকে ২০১৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় …