এই সময়ে
হোম / কিশোর সমস্যা / কিশোর অপরাধ দমনে অভিভাবকদের ভূমিকা
কিশোর

কিশোর অপরাধ দমনে অভিভাবকদের ভূমিকা

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: শিশুরা আমাদের প্রজন্ম, জাতির ভবিষ্যৎ। বলা হয় আজকের কিশোর আগামী দিনের দেশ ও জাতির কর্ণধার। পরিবার, সমাজ ও জাতীয় জীবনে সত্যিকার ভাবে আলোর দিশারী এ তরুণ সমাজকে আমরা এখনো সত্য নির্ভর ভরসার জায়গা মনে ।
কিন্তু যখন দেখি তরুণ-তরুণী তথা এ দেশের কিশোর-কিশোরী অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে, গন্তব্যহীন তাদের অভিযাত্রা, নীতি-নৈতিকতাহীন আচরণ, মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে, তখন সমাজপতি কিংবা সাধারণ মানুষ মর্মাহত না হয়ে পারেন না। ব্যক্তিস্বার্থের কবলে কিংবা লোভের দেয়ালে বন্দী হয়ে বিপথগামী হচ্ছে তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর অপরাধ সামাজিক ও জাতীয় উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। খুন-ধর্ষণ, মাদক সেবন, চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং সহ ভয়াবহ অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি ব্যাপকভাবে গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। দেশের অনেক অঞ্চলে কিশোর অপরাধের খবর সংবাদপত্রে আসে না। তরুণদের এমন ভয়ংকর খুনাখুনি ও অপরাধের ঘটনা সরকার ও সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। পুলিশ খুনের ঘটনায় জড়িত অনেক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত কিশোর-কিশোরীদের পুলিশ পোশাক পরা অবস্থায় ঝাকে ঝাকে ধরে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিচ্ছে। পুলিশ কিশোর অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
পরিবারের পর শিশু কিশোরদের প্রিয় স্থান হচ্ছে তার বিদ্যালয়। শিশুদের ব্রেইন কৌতুহলী থাকায় শিক্ষকদের নিকট থেকে শিখতে চায়, অনুসরন অবলম্বন করে। সেখানে সে পড়ে, শিখে শুধু পাঠ্যপুস্তক নয় জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, নীতি-নৈতিকতা, ধর্ম-কর্ম শিক্ষা নেয়। মানুষ হওয়ার হাতে খড়ি তার স্কুল জীবনই। এসব শিশুদের মানুষ করতে শিক্ষকদের মন-মানসিকতা থাকতে হয় মানব প্রেমের।
মনে করতে হবে সব শিশুই তার সন্তান, না হয় স্বজন, না হয় আপনজন। ক্ষমা চেয়ে দায়িত্ব নিয়েই লিখছি, সব শিক্ষক এখন শিক্ষক নন। কেউ কেউ শিক্ষক ব্যবসায়ী। শিক্ষা মৌলিক অধিকারের পরিবর্তে বাণিজ্যিক পণ্য হয়ে গেছে। অনেক গুরু এখন গুরু নয়। মানুষের আস্থার জায়গা ধীরে ধীরে শূণ্য হচ্ছে। সাইবার অপরাধ পৃথিবীতে যা আছে তা ওস্তাদ ছাড়াই শিক্ষা নিচ্ছে আমাদের শিশুরা।
যৌবন প্রাপ্তির গুরুত্বপূর্ণ এ সময়ে ইন্টারনেটে বিকৃত সংস্কৃতির দৃশ্য দেখে মানসিক ভাবে ধাবিত হচ্ছে আমাদের শিশুরা ধর্ষন, প্রেম, বলৎকার সহ নানা অপরাধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক, টুইটার, স্কাইপ, ইমুতে যুক্ত হয়ে সময় কাটায় ঘন্টার পর ঘন্টা। নিজের সন্তানের ভালো মনে করলে সন্তানরা তাদের জীবন করতে চাইলে মোবাইল ব্যবহার না করা খুবই ভালো।
একটি শিশুর অভিভাবক শুধু তার মা-বাবা বা আত্মীয়-স্বজন নয়, শিক্ষক, সমাজ, রাষ্ট্র তথা শিশুর বড় সবাই তার অভিভাবক। একটি শিশু ভালো হলে পরিবার, সমাজ, অঞ্চল বা রাষ্ট্রের সুনাম বৃদ্ধি পায়। দেশ আলোকিত হয়। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী প্রজন্ম যেন অপরাধমুক্ত হয়। তারা বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে সেদিকে আমাদের কু-দৃষ্টি নয় হৃদয় নিংরানো সু-দৃষ্টি সবাইকেই রাখতে হবে। আমরা সকলে মিলে সকলের তরে, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। সকল শ্রেণি পেশার মানুষের চেষ্টায় কিশোর অপরাধ দমনে একত্রিত হই।

আরও দেখুন

ফাস্ট ফুড

ফাস্ট ফুড শিশু-কিশোরদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে

কিশোর বাংলা প্রতিবেদনঃ খেতে সুস্বাদু হওয়ায় গোটা বিশ্বে ফাস্ট ফুড এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে। …