এই সময়ে
হোম / ফিচার / আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে সেতুবন্ধন গ্রন্থাগার
সেতুবন্ধন

আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে সেতুবন্ধন গ্রন্থাগার

কিশোর বাংলা প্রতিবেদনঃ জ্ঞানার্জনে বইয়ের বিকল্প নেই। মনের খোরাক মেটাতে আমরা বই পড়ি। এজন্য চাই অনেক বই, হরেক বইয়ের সমাহার। সে সঙ্গে চাই নিরিবিলি পরিবেশ। বিষয়গুলোর সম্মিলন যেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার সেতুবন্ধন গ্রন্থাগারটি।

আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে গ্রন্থাগারের সংখ্যা অপ্রতুল। প্রত্যন্ত এলাকায় গ্রন্থাগার নেই বললেই চলে। পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বই সম্পর্কে গ্রামাঞ্চলের শিশু-কিশোদের তেমন কোনো ধারণা নেই। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে
শিশু-কিশোরদের হাতে বই তুলে দিতে সৈয়দপুরের প্রত্যন্ত খালিশা বেলপুকুর গ্রামে গড়ে উঠেছে সেতুবন্ধন গ্রন্থাগার।

পাখি ও প্রকৃতি সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেতুবন্ধনের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে এ গ্রন্থাগারটি। নবনির্মিত এই গ্রন্থাগার ঘিরে এখন বই পড়ার আনন্দে মেতেছে খালিশা বেলপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী। পাশাপাশি এলাকার স্কুলের ঝরেপড়া কিশোররাও সেই আনন্দে শামিল হচ্ছে। তিন শতাংশ জমির ওপর টিনের ছাউনির এ পাঠাগারে শোভা পেয়েছে ছয় শতাধিক বই।

খালিশা বেলপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফজলার রহমান প্রামাণিক বলেন, সেতুবন্ধন গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠা একটি মহতী উদ্যোগ। গ্রামের শিশু-কিশোর ও বয়স্কদের জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে তাদের এই প্রয়াস ভালো লেগেছে। সাধারণ মানুষের বই পড়ার আগ্রহ দেখে মনে হয় ধীরে ধীরে এলাকায় আলো ছড়াবে।

ধর্মীয়, সাহিত্য ও বিজ্ঞানের এসব বই দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রহ করে আসছেন সেতুবন্ধন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। বই সংগ্রহের পেছনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন লেখক, কবি ও সাহিত্যানুরাগীরা।

সেতুবন্ধন পাঠাগারে একটি মাত্র বইয়ের শেলফ রয়েছে। এতে গাদাগাদি করে সব বই সাজানো। তাই পছন্দের বই খুঁজে পেতে একটু বেগ পেতে হয়। কক্ষটিতে পাশাপাশি তিনটি পড়ার টেবিল রয়েছে। বসে পড়ার জন্য কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার রাখা হয়েছে। এখানে বসেই পছন্দের বই পাঠে মগ্ন থাকেন পাঠকরা।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য গ্রন্থাগারটি খোলা থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিফিনের (মধ্যাহ্ন বিরতির) সময়। শিক্ষার্থীরা এ সময় পাঠাগারে এসে বই পড়ে। বাড়িতেও পড়ার জন্য বই নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ গ্রন্থাগারটি বইয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বন্ধন আরও দৃঢ় করেছে। সে সঙ্গে এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠদের নতুন করে জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার সুযোগ করে দিয়েছে।

গ্রন্থাগারে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থী ও পাঠক সহজেই দেশ-বিদেশের খবরাখবর পেতে পারেন। এছাড়া নিয়মিত কবিতা চর্চা, সাহিত্য সভা ও মাসিক গল্প লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এখানে। আর এসব প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে মহামূল্যবান বই তুলে দেওয়া হয়।

সেতুবন্ধনের প্রচেষ্টা ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দিনে দিনে গ্রন্থাগারটি আলোর মুখ দেখছে। পাঠক সমাজে গ্রন্থাগারটির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলস্বরূপ সেতুবন্ধন গ্রন্থাগার সরকারিভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। বর্তমানে এর আধুনিকায়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে আরও বই সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

পাঠাগারের নিয়মিত পাঠক শিক্ষার্থী জুঁই জানায়, এখানে আমরা ছড়া ও গল্পের বই পড়ি। পাশাপাশি পত্রিকা পড়ে বিভিন্ন খবরাখবরও জানতে পারি। গ্রন্থাগার নির্মাণ হওয়ায় আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি।

গ্রন্থাগারের নিয়মিত পাঠক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুজন জানায়, আমরা এখন অবসর সময়টা গ্রন্থাগারে বিভিন্ন শিশুতোষ ছড়া ও গল্পের বই পড়ে কাটাই। প্রত্যন্ত গ্রামের ভেতরে বিভিন্ন ছড়া, গল্পের বই পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে এটি।

সেতুবন্ধন গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা এ গ্রন্থাগারের মাধ্যমে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। গ্রামাঞ্চলের পাঠকদের বেশি বেশি বই পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি। এজন্য আমরা প্রচুরসংখ্যক বইয়ের সমাহার ঘটাতে চাই। গ্রন্থাগারটিকে একটি আদর্শ পাঠাগারে রূপ দিতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম গোলাম কিবরিয়া সেতুবন্ধনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সেতুবন্ধনের কার্যক্রম বরাবরই প্রশংসনীয়। এবার তাদের গ্রন্থাগার নির্মাণের কাজ আমাদের মুগ্ধ করেছে। উপজেলা প্রশাসন সব সময় চেষ্টা করবে সেতুবন্ধনের স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে পাশে থাকার।

উল্লেখ্য, পাখি ও প্রকৃতি সুরক্ষায় ২০১৩ সাল থেকে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেতুবন্ধন সৈয়দপুরের অনেক গাছে প্রায় ছয় হাজার কলস লাগিয়েছে। সে সঙ্গে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নানামুখী কর্মসূচি পালন করে আসছে।

সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডেও সেতুবন্ধনের অগ্রযাত্রা চোখে পড়ার মতো। গ্রামাঞ্চলের নিরক্ষরতা দূরীকরণে ২০১৭ সালে জনপ্রিয় এ সংগঠনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে সেতুবন্ধন পাঠশালা। এখান থেকে হাতে-কলমে শিক্ষা নিয়ে অর্ধশতাধিক নিরক্ষর মানুষ লিখতে ও পড়তে পারছে।

আরও দেখুন

শিশুপার্ক

অত্যাধুনিক সাজে শিশুদের কাছে ফিরছে শিশুপার্ক

কিশোর বাংলা প্রতিবেদনঃ রাজধানী ঢাকার শিশু-কিশোরদের সরকারি ও বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম খরচ …