টিন এইজ

কিশোর বাংলা প্রতিবেদন: মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণা থেকে জানা যায়, সম্পর্কের বিচ্ছেদের কারণে, অবিবাহিতা অবস্থায় গর্ভবতী হওয়া, ব্যক্তিত্ববোধ, কোন কাজে হেরে যাওয়া, পরীক্ষায় খারাপ করা, এসব কারণে হতাশা থেকে বিষণ্নতা গ্রাস করে টিন এইজ কিশোর-কিশোরীদের । গুরুতর বিষণ্নতা টেনে নেয় আত্মহননের পথে। এসব কারণে বিশ্বে বছরে ৪০ লাখ লোক আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তবে সফল হয় ১ লাখ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর শাহিন ইসলাম বলেন, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে টিনেজাররা। তাদের বয়সটা হচ্ছে সবদিক থেকে বাড়ন্ত সময়। এ সময় তারা অল্পতেই রেগে যায়। তাদের মধ্যে উত্তেজনা কাজ করে বেশি। সম্পর্কে বিচ্ছেদের কারণেই তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাটা বেশি বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন।

গ্রাম এলাকা ও শহর এলাকায় আলাদাভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, গ্রামের মেয়েদের বেশির ভাগই যৌতুকের কারণে, বিয়ে বারবার ভেঙে যাওয়ার কারণে, ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে, অনেকে ধর্ষণের শিকার হয়ে কাউকে বলতে না পেরে হতাশা থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব থেকে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে প্রায় ৫৩ হাজার মানুষ গলায় ফাঁস দিয়ে কিংবা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। বাংলাদেশের প্রজননক্ষম বিবাহিত নারীদের মধ্যে শহরের ১৪ শতাংশ ও গ্রামের ১১ শতাংশ নারী আত্মহত্যার কথা চিন্তা করে। এদের মধ্যে শহরের ২৬ শতাংশ ও গ্রামের ৯ শতাংশ নারী আত্মহত্যা করে। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাংসারিক অশান্তি, পরকীয়া, মাদকসেবন ও বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে বাড়ছে টিন এইজ কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার হার। মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছরই আত্মহত্যার হার বাড়ছে।

বাংলাদেশে টিন এইজ কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার হার দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়, মুড বা সার্বক্ষণিক আবেগীয় অবস্থা বা মেজাজের পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে মস্তিষ্কের জৈব রাসায়নিক পদার্থ, নিউরোট্রান্সমিটারের গোপন সংশ্রব। এ পদার্থগুলোর মধ্যে সেরোটোনিক ও নরএড্রিনালিনের মাত্রা কমে গেলে মনোজগতে তৈরি হয় নিম্নচাপ। নিম্নচাপ থেকে আসে বিষণ্নতা। গুরুতর বিষণ্নতা থেকেই প্রবণতা বাড়ে আত্মহত্যার। সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে গেছে। এর  অন্যতম কারণ পারিবারিক অসচেতনতা এবং কাউন্সেলিং-এর অভাব।

যদি ছেলেবেলা থেকেই পরিবার থেকে তার ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতন করে তোলা হয় তাহলে তার মধ্যে রাগ জেদ অনৈতিক আবদার থাকবে না। চিন্তা-ভাবনা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে তারা। কমে আসবে আত্মহত্যার সংখ্যা ।

LEAVE A REPLY